রবিবার, ১০ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২২ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

হাট কাঁপাতে আসছে হাজার কেজির ‘জমিদার’

মুক্তবাণী রিপোর্ট : নাম তার জমিদার। নামের মতোই রাজকীয় গড়ন আর বিশাল দেহ। ওজন এক হাজার ৩০০ কেজি, অর্থাৎ এক টনেরও বেশি। কোরবানির হাটে তোলা হচ্ছে বিশালদেহী গরুটিকে।
তবে তার আগেই পশুটিকে দেখতে বাড়িতে ভিড় করছে মানুষ।

জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর এলাকার খামারি রফিকুল ইসলামের খামারে বেড়ে উঠেছে ফিজিয়ান জাতের গরুটি।

সরেজমিনে খামারটিতে গিয়ে দেখা যায়, জমিদার শুধু আকারেই বড় নয়, তার জীবনযাপনও একেবারে রাজকীয়।

খামারি রফিকুল জানান, জমিদারের খাবারের পেছনে প্রতিদিন খরচ হয় প্রায় দুই হাজার টাকা।
বাসী খাবার সে একদমই খায় না। প্রতিবারই চাই টাটকা খাবার। এ কারণেই পশুটির নাম রাখা হয় ‘জমিদার’। তিনি জানান, চার বছর আগে গোলঘরেই জন্ম নিয়েছিল জমিদার।
ছোটবেলা থেকেই তাকে লালন-পালন করা হয়েছে গোয়ালঘরে, সন্তানের মতোই। গরুটিকে গোয়ালঘর থেকে বের করতে হলে ঘরের দেয়াল ভাঙতে হবে।

রফিকুল বলেন, ‘প্রতিদিন গরুটির পেছনে প্রায় দুই হাজার টাকা খরচ হয়। খাবারের তালিকায় থাকে কলা, হাঁসের ডিম, দেশি ঘাস, ভুট্টা ও গমের ভুষি। নিয়মিত গোসল করানো হয় শ্যাম্পু দিয়ে।
তিনি বলেন, ‘গত বছর ছয় লাখ ২০ হাজার টাকা দাম উঠেছিল, কিন্তু বিক্রি করিনি। ইচ্ছা ছিল আরো বড় করে বিক্রি করার। এবার ভালো দাম পেলেই বিক্রি করে দেব।’

রফিকুলের স্ত্রী রোজিনা বেগম বলেন, ‘সন্তানের মতো করেই গরুটিকে বড় করা হয়েছে। পরিবারের সবাই মিলে তাঁর যত্ন নিই। এমন একটি দামে বিক্রি করতে চাই, যাতে আমাদের কিছু লাভ হয়। বাড়ি থেকেই গরুটি বিক্রি হলে আমাদের উপকার হবে।’

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল লতিফ বলেন, ‘এমন বিশাল দেহের গরু আগে কখনো এলাকার মানুষ দেখেনি। গরুটি লালন পালন করেছেন রফিকুল ইসলাম তিনি গরীব মানুষ। কষ্ট করেই লালন পালন করেছে। একটু বেশি দামে বিক্রি করতে পারলে তাঁর পরিবার ভালো থাকতে পারবে।’

স্থানীয়রা জানায়, এলাকায় এর আগে এত বড় গরু কেউ দেখেনি। প্রতিদিনই মানুষ জমিদারকে দেখতে খামারে আসছেন। গরুটি মালিকের ভাষা বোঝে এবং তাতে সাড়াও দেয়। দাঁত দেখাতে বললে দাঁত দেখায়, ডাক দিলেই সাড়া দেয়। এসব কারণেই মানুষ বেশি ভিড় করছে সেখানে।

জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ টি এম হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ছোট খামারিরাও এখন বড় আকৃতির গরু পালন করে লাভবান হচ্ছেন। প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে গরুটির নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সরকারিভাবে অনলাইনে পশু বিক্রির প্লাটফর্ম চালু রয়েছে। এছাড়া জেলায় বিভিন্ন পশুর হাটও রয়েছে।

প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানান, এ বছর কোরবানির জন্য জেলায় গবাদি পশু রয়েছে এক লাখ সাত হাজার ৬৫টি। জেলার জন্য চাহিদা ৮২ হাজার‌। বাকি ২৩ হাজার পশু দেশের বিভিন্ন জায়গায় রপ্তানি করা হবে।