বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩০ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৫ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

চীন সফরে গেলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্ব রাজনীতির টানটান উত্তেজনার মধ্যে তিন দিনের এক রাষ্ট্রীয় সফরে চীন গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেলে তিনি চীনের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। আজ বুধবার তিনি বেইজিং পৌঁছাবেন এবং ১৫ মে পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করবেন।

সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্য মতে, বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই সফর বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এমন অবস্থায় ট্রাম্পের চীন সফর আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সফর প্রসঙ্গে মার্কিন উপ-প্রেস সচিব অ্যানা কেলি জানিয়েছেন, বুধবার সন্ধ্যায় বেইজিং পৌঁছানোর পর ট্রাম্পকে এক রাজকীয় সংবর্ধনা দেওয়া হবে। সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার দুই বিশ্ব নেতার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ট্রাম্প ঐতিহাসিক ‘টেম্পল অফ হেভেন’ পরিদর্শন করবেন এবং জিনপিংয়ের দেওয়া রাষ্ট্রীয় ভোজে অংশ নেবেন। এই সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে থাকছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীরা।

এক বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, উচ্চ শুল্ক আরোপের মাধ্যমে তিনি আমেরিকার প্রধান অর্থনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী চীনকে চাপে ফেলবেন। কিন্তু এবার তিনি চীন সফরে যাচ্ছেন অনেক কম প্রত্যাশা নিয়ে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এখন তার লক্ষ্য সীমিত হয়ে দাঁড়িয়েছে সয়াবিন, গরুর মাংস ও বোয়িং বিমান বিক্রিসহ কয়েকটি বাণিজ্য চুক্তি এবং ইরান যুদ্ধের সমাধানে চীনের সহায়তা পাওয়া।

পর্যবেক্ষক সংস্থা এশিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের চীন বিষয়ক শীর্ষ উপদেষ্টা কুর্ট কাম্পবেল বলেছেন, ‘এটি উল্লেখযোগ্য যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন (যুদ্ধ চলা) অবস্থায় চীনে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়েছেন। আমি সঙ্গে এও বলব চীন এমন অবস্থায় যে তাকে স্বাগত জানাচ্ছে এটিও অত্যন্ত অস্বাভাবিক।’

কুর্ট কাম্পবেল আরও বলেন,‘এত কিছু সত্ত্বেও ট্রাম্পের চীন যাওয়ার বিষয়টি ইঙ্গিত করছে তার এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে হতে যাওয়া বৈঠকে মধ্যে দুই দেশেরই স্বার্থ জড়িত রয়েছে। আমার মনে হয় তাদের মধ্যে যে ভঙ্গুর সম্পর্ক রয়েছে সেটিও টিকিয়ে রাখার অংশ ট্রাম্পের এ সফর।’

উল্লেখ্য, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে ট্রাম্পের এই সফরটি হতে যাচ্ছে দীর্ঘ ৯ বছর পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম চীন সফর। তার এ সফরটি আরও আগে হওয়ার কথা ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে জড়িত হওয়ায় ট্রাম্পের বেইজিং সফর পিছিয়ে যায়। ধারণা করা হয়েছিল, যুদ্ধ থামার পর তিনি চীন যাবেন। তবে যুদ্ধ এখন পর্যন্ত থামেনি। এর আগেই তিনি তার এ রাষ্ট্রীয় সফর শুরু করেছেন।