এইচ এম প্রফুল্ল, খাগড়াছড়ি : স্বপ্ন ও অদম্য ইচ্ছা শক্তি থাকলে অসম্ভবকে সম্ভব করা যায় তারই প্রমাণ করলেন মানিকছড়ির ফোরকান ও দীঘিনালার সালাউদ্দিন| পাহাড়ের চূড়ায় বিদেশি জাতের আঙুর চাষ করে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছেন এই দুই উদ্যোক্তা| আঙ্গুর সু-স্বাদু ও সু-মিষ্ট হওয়ায় ব্যতিক্রমধর্মী আঙ্গুর বাগান এখন স্থানীয়দের পাশাপাশি দর্শনার্থীদেরও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে| এতে অনেকের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ হয়েছে|

খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি এফ.এম এগ্রো’র ব্যবস্থাপক মো: রাশেদ ইসলামের পরামর্শে গেল বছরের শুরুতে জেলার মানিকছড়িতে ১৬০ শতক পাহাড়ি জমিতে চায়না রেডরোজ, আর্লি সামার ব্ল্যাক, শাইন মাসকাট, সামার ব্লাক গ্রেপ ও কুইন-নিনাসহ অন্তত ২৩ জাতের আঙুরের পরীক্ষামূলক চাষ শুরু করেন এগ্রো ফার্মটির উদ্যোক্তা মো. ফোরকান| চলতি মৌসমে কম বেশি সবকটি জাতেই ভালো ফল এসেছে| মাচায় মাচায় ঝুলছে সবুজ, কালো ও বেগুনি রঙসহ নানা রঙ্গের আঙুর| ফল পাকতে শুরু করলেও এখনো শুরু হয়নি বিক্রি| তবে যেসব জাতের ফলন সবচেয়ে বেশি এসেছে সেসব গাছে গ্রাফটিং ও রুট পদ্ধতিতে আঙুরের চারা তৈরি করে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদের পরিকল্পনা করছেন বাগান কর্তৃপক্ষ|

প্রত্যন্ত এই জনপদে গড়ে তোলা আঙুর বাগানটি একদিকে যেমন পাহাড়ের কৃষি ও অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে| এতে করে সৃষ্টি করেছে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানও বলছেন এলাকাবাসী|
মানিকছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জহির রায়হান বলেন, মানিকছড়ির পাহাড়ে প্রথমবারের মতো বিদেশি জাতের আঙ্গুর চাষ হয়েছে| ফলও খুবই ভালো হয়েছে| কৃষি বিভাগ থেকে নিয়মিত তার বাগান পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে বলে জানায় উপজেলা কৃষি বিভাগ। অপর দিকে পাহাড়ে শখ থেকে শুরু করে সফলতার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন খাগড়াছড়ির মো: দীঘিনালার সালাউদ্দিন | ব্যতিক্রমী আঙ্গুর চাষকে সম্ভাবনাময় কৃষিখাত হিসেবে প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখছেন তিনি|

জেলার দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের ভূইয়াছড়ি এলাকার বাসিন্দা মো. সালাউদ্দিন নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন একটি ব্যতিক্রমধর্মী আঙ্গুর বাগান| ইউটিউব ও ফেসবুক থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শুরু করা এই উদ্যোগ এখন বাণিজ্যিক সম্ভাবনার দিকে এগোচ্ছে|
মো: সালাউদ্দিন বলেন, তিনি ২০২৩ সালে ইউক্রেনের ‘বাইকোনুর’ জাতের মাত্র দুটি চারা ১ হাজার ৪০০ টাকায় কিনে যাত্রা শুরু করেন তিনি| বর্তমানে প্রায় ১৫ শতক জমিতে ৬০টিরও বেশি জাতের প্রায় ১৭০টি গাছ নিয়ে গড়ে উঠেছে তার বাগান | তার আঙ্গুর বাগানে রয়েছে, পিঙ্ক’, ‘বাইকিং’, ‘গ্লোরি’, ‘ডিক্সন’, ‘দাসোনিয়া’ ও ‘মেডরো ব্ল্যাক’| এছাড়া চীনের ‘চ্যাং ফিঙ্গার’ এবং মালয়েশিয়ার ‘গ্রীন লং’ জাতও|

শুধু ফল উৎপাদন নয়, গ্রাফটিং পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন করে অনলাইনে বিক্রি করেও ভালো আয় করছেন তিনি| প্রতি বছর ফেব্রুয়ারি থেকে জুন মৌসুমে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার চারা বিক্রি করেন, যার প্রতিটির মূল্য ২০০ থেকে ১ হাজার টাকা| তার লক্ষ্য দেশের মানুষের মাঝে আঙ্গুর চাষ ছড়িয়ে দেওয়া এবং এটিকে সম্ভাবনাময় কৃষিখাতে রূপ দেওয়া|সালাউদ্দিনের সাফল্য দেখে এলাকার অনেকে আঙুর চাষের স্বপ্ন দেখছেন|
দীঘিনালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, পাহাড়ি এলাকায় এ ধরনের উদ্যোগ নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে| কৃষি বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে|