নিজস্ব প্রতিবেদক : ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তৎকালীন আওয়ামী সরকারের অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্তের কারণেই এ দেশের জনগণ পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
শুক্রবার ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা বলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের মতামতকে অগ্রাহ্য করে এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কাকে উপেক্ষা করে তৎকালীন সরকার ভারতকে পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা বাঁধ চালুর অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু সেই কয়েক দিনের অনুমতি এখন স্থায়ী মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে, যা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলকে মরুভূমিতে পরিণত করছে।
মির্জা ফখরুল তার বাণীতে স্মরণ করেন, আজ থেকে ৪৯ বছর আগে মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ডাকে গঙ্গা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবিতে লাখো জনতা ফারাক্কা অভিমুখে ঐতিহাসিক লংমার্চে অংশ নিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ‘ফারাক্কা দিবস আমাদের জাতীয় আন্দোলনের এক ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যময় দিন।’ ভারত কর্তৃক গঙ্গা নদীতে বাঁধ নির্মাণ করে একতরফা পানি প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাওলানা ভাসানীর সেই দূরদর্শী প্রতিবাদ বিশ্ব সম্প্রদায়ের নজরে এই মানববিপর্যয়কারী ইস্যুটিকে নিয়ে এসেছিল।
বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক আইন ও কনভেনশনের তোয়াক্কা না করে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবাহিত ৫৪টি অভিন্ন নদীতে একের পর এক বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে।
নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ নিষ্ফলা উষর ভূমি হয়ে ওঠার আলামত ইতিমধ্যেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই বঞ্চনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে ১৯৭৬ সালের ১৬ মে’র সেই অকুতোভয় পদযাত্রা আজও অধিকার আদায়ের সংগ্রামে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন সংগঠনের কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন এবং দেশের স্বার্থ রক্ষায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অভিন্ন নদীর পানির অধিকার নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো করা প্রয়োজন। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও মানুষের জীবনযাত্রা রক্ষায় ফারাক্কা দিবসের তাৎপর্য আজও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক বলে তিনি তার বক্তব্যে পুনর্ব্যক্ত করেন।