এইচ এম প্রফুল্ল, খাগড়াছড়ি : উঠানের একপাশে বড় পাতিলে ভাত রান্না হচ্ছে সাধারণ চোখে মনে হতে পারে কোনো মেজবানির আয়োজন| কিন্তু‘ এই ভাত রান্না হচ্ছ একটি গরুর জন্য| আর সেই গরুটির নাম ‘সম্রাট’| গরুটি প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার টাকার খাবার খায়|
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা বাজারের কাছে শেঠ এগ্রো ফার্মস লিমিটেড-এ বড় হয়ে উঠছে এই অসাধারণ ষাঁড়| ফ্রিজিয়ান জাতের সম্রাট এখন পুরো এলাকায় আলোচনার ঝড় তুলেছে| প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে শত শত মানুষ ভিড় করছেন শুধু এক নজর দেখার জন্য| কালো-সাদা মিশ্রিত তার বিশাল দেহ আর কপালের নান্দনিক ছাপ দেখলে চোখ ফেরানো যায় না|
প্রায় আড়াই বছর আগে চট্টগ্রামের একটি খামার থেকে আনা হয়েছিল সম্রাটকে| বর্তমানে তার ওজন প্রায় ১ হাজার ১০০ কেজি| খামার কর্তৃপক্ষ এর দাম হাঁকিয়েছেন ১২ লাখ টাকা| আসন্ন ঈদুল আজহায় গরুর হাটে তোলা হবে এই দানবাকৃতির ষাঁড়কে|
প্রাকৃতিক যত্নে বেড়ে ওঠা রাজা শেঠ এগ্রো ফার্মসে বর্তমানে তিনটি গয়াল, তিনটি মহিষসহ মোট ৩২টি পশু রয়েছে| তবে সবাইকে ছাপিয়ে সবচেয়ে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু ‘সম্রাট’|
সম্রাটকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করা হয়েছে| খড়, খৈল, ভুষি, ভুট্টার ঘাসের পাশাপাশি তার প্রিয় খাবার আতপ চালের ভাত| প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার টাকার খাবার খায় সে| তিনজন শ্রমিক সার্বক্ষণিক তার দেখাশোনা করেন| প্রতিদিন তিন বেলা গোসল করানো হয়| ফলে তার স্বাস্থ্য যেমন উজ্জ্বল, স্বভাবও অত্যন্ত শান্ত ও নম্র|
শেঠ এগ্রো ফার্মস লিমিটেডের শ্রমিকরা জানান, সম্রাটকে ঘিরে আমরা দিন-রাত পরিশ্রম করেছি| প্রায় আড়াই বছর ধরে মাটিরাঙ্গার এই খামারে তাকে সন্তানের মতো যত্ন করে বড় করে তুলেছি| আতপ চালের ভাত তার খুবই পছন্দের খাবার| প্রতিদিন আমি নিজ হাতে তার জন্য ভাত রান্না করি| সম্রাটকে মোটাতাজাকরণের জন্য কোনো ধরনের কৃত্রিম ওষুধ বা ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার করা হয়নি| সম্পূর্ণ দেশীয় ও প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে বড় করা হয়েছে| সম্রাটের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো তার শান্ত স্বভাব ও কপালের মনোমুগ্ধকর রঙ| আশা করছি, এবারের কোরবানির হাটে সম্রাট সবাইকে মুগ্ধ করবে|
শ্রমিকরা জানান, সম্রাট ভাত খেতে খুব ভালোবাসে, তাই প্রতিদিন বড় পাতিলে করে ওর জন্য আতপ চালের ভাত রান্না করতে হয়| দিনে তিনবার গোসল করানো আর ওর থাকার জায়গা পরিষ্কার রাখতেই আমাদের তিন জনের পুরো সময় কেটে যায়| এত বড় গরু শান্তভাবে সামলানো কঠিন, কিন্তু সম্রাট আমাদের সব কথা বোঝে|
খাগড়াছড়ি জেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর কর্মকর্তা মো. আলী আজম জানান, খাগড়াছড়িতে কোরবানীর ১৩ হাজারের চাহিদার বিপরীতে ১৮ হাজার পশু রয়েছে|
শেঠ এগ্রো ফার্মের এই উদ্যোগ দেখিয়ে দিচ্ছে-সঠিক যত্ন, ধৈর্য আর প্রাকৃতিক খাবার দিয়ে সাধারণ গরুকেও ‘সম্রাট’ বানানো সম্ভব| মাটিরাঙ্গার এই দানবাকৃতির ষাঁড় এখন শুধু একটি পশু নয়, বরং সফল খামার ব্যবস্থাপনার জীবন্ত উদাহরণ হয়ে উঠেছে|