বুধবার, ২০ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৬ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২ জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

খুমেক হাসপাতালে আগুন

খুলনা প্রতিনিধি : খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল ভবনের তৃতীয় তলায় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। বুধবার (২০ মে) ভোর ৬টায় এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

এতে মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রোগী ও তাদের পরিজনদের মধ্যে। আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে অনেকে আহত হন।

আগুনের ঘটনায় মোট পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন— হাসপাতালের স্টাফ সাইদুর রহমান (৫০), সিনিয়র স্টাফ নার্স নওরিন, দিপালী ও শারমিন ও ফায়ার সার্ভিস সদস্য তৌহিদ।

ওয়ার্ডবয় রেজাউল বলেন, ধারণা করা হচ্ছে স্টোর রুম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। কীভাবে হয়েছে বলা যাচ্ছে না।
ধোঁয়ায় ওটি ও পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডের কোনো কিছু দেখা যাচ্ছিল না। পোস্ট অপারেটিভ রুম থেকে মুমূর্ষু রোগীদের পিছন দরজা থেকে বের করা হয়, আইসিইউর কিছু রোগী বের করা হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আমাদের নার্স আপাদের উদ্ধার করেন। দুইজন নার্স আপা অসুস্থ হয়ে পড়েন, তাদের বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। একজন নার্স তিন তলা থেকে নামানোর সময় পড়ে যান। তবে এ ঘটনায় কোনো রোগী আহত হননি।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট আগুন নির্বাপণে কাজ শুরু করে। এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক সরকার মাসুদ আহমেদ বলেন, ভোর ৬টার দিকে আমরা আগুন লাগার খবর পেয়ে বয়রা থেকে ৩টি ইউনিট এসে কাজ শুরু করি। পরে আরও ৭টি ইউনিট এসে কাজ শুরু করে। প্রায় ১ ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে চার তলা ভবনের ৩ তলার স্টোর রুমে আগুন ছিল। প্রথমে কিছু প্রতিবন্ধকতা ছিল। সব গেটে তালা দেওয়া ছিল, যা ভেঙে ভেতরে ডুকতে হয়েছে। প্রথমেই আমরা বেলকনি থেকে ৪/৫ জনকে উদ্ধার করি। পরে আগুন নির্বাপণ শেষে আর কাউকে হতাহত পাইনি।

রোগী ও রোগীর স্বজনরা জানান, অগ্নিকাণ্ডের সময় বেশিরভাগ লোক ঘুমে ছিলেন। স্টোর রুমের আগুন লাগার পর তা ছড়িয়ে পড়ে ওটির সব কিছু পুড়ে যায়। সবাই আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি করে নিরাপদে নিচে নেমে হাসপাতালের মাঠে অবস্থান করেন। অনেকে তাদের রোগীদের অন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।

তারা অভিযোগ করেন, ওটিতে ২৪ ঘণ্টা অপারেশন চলে। সেখানে এভাবে আগুন লেগে সব পুড়ে যাওয়ার ঘটনা রহস্যজনক। এর সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. হোসেন আলী জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শর্ট সার্কিট অথবা এসি বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে তদন্তের পর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

খুমেক হাসপাতালের নিরাপত্তা কর্মী আনসার কমান্ডার এসিপি মো. আরিফুল ইসলাম জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় গ্রিল কাটতে গিয়ে গ্রিল ভেঙে পড়ে দুইজন স্টাফ নার্স ও ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্য আহত হন। পরে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, আগুনের ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন সিনিয়র স্টাফ নার্স নওরিন। এছাড়া সিনিয়র স্টাফ নার্স দিপালী ও শারমিনকে ভবন থেকে উদ্ধার করে নিচে নামানোর সময় ফায়ার সার্ভিস সদস্য তৌহিদ আহত হন। পরে দিপালী ও শারমিনকে চিকিৎসার জন্য খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।