নিজস্ব প্রতিবেদক : সকাল ১০টার পর থেকেই আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় রাজধানীজুড়ে মুষলধারে বৃষ্টি।
হঠাৎ এমন ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধতায় সৃষ্টি হয়েছে, এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রাজধানীবাসী ও ঈদে ঘরমুখো হাজারো যাত্রী।
রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।
ঈদযাত্রায় বের হওয়া যাত্রীরা দীর্ঘসময় আটকে থাকেন রাস্তায়। বাসস্ট্যান্ড ও টার্মিনালগুলোতে ছাতা হাতে অপেক্ষা করতে দেখা যায় অসংখ্য মানুষকে।
অনেককে ভিজে কষ্ট করেই গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দিতে হচ্ছে।
জলাবদ্ধতা:
অন্যদিকে, বৃষ্টির কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন রাজধানীর পশুর হাটে আসা ব্যবসায়ীরা।
দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কোরবানির পশু নিয়ে আসা ব্যবসায়ীরা জানান, টানা বৃষ্টিতে হাটের অনেক জায়গায় পানি জমে গেছে। এতে পশু রাখা, খাবার দেওয়া এবং ক্রেতাদের চলাচলে দেখা দিয়েছে চরম সমস্যা। কাদাপানি আর জলাবদ্ধতার কারণে পশু কেনাবেচাও ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষ করে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে, মিরপুর কালশি রোড, মিরপুর-১০ নম্বর, কাজীপাড়া এলাকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার চিত্র দেখা গেছে। কোথাও হাঁটুসমান পানি, কোথাও আবার ড্রেন উপচে রাস্তায় নোংরা পানি উঠে আসায় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
মহাসড়ক জলাবদ্ধতা:
সিএনজি যাত্রী বিলকিস বেগম (৪৫) বলেন, সায়েদাবাদ থেকে সাতক্ষীরা যাওয়ার জন্য আগেই গাড়ির টিকিট কেটে রেখেছি। কিন্তু বিশ্বরোড এলাকায় পানির মধ্যে এসে সিএনজিটি নষ্ট হয়ে গেছে। এখন এই ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে কীভাবে সায়েদাবাদ পৌঁছাবো বুঝতে পারছি না। এভাবে চলতে থাকলে হয়তো গাড়িও ধরতে পারব না।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই রাজধানীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। সরকার আসলে কী করে? সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দেখার যেন কেউ নেই।
জলাবদ্ধতায় আটকা পড়েছে সিএনজি:
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা এলেই একই চিত্র দেখা যায়। অল্প বৃষ্টিতেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়, অথচ দীর্ঘদিনেও কার্যকর সমাধান মিলছে না। ঈদকে সামনে রেখে এমন পরিস্থিতিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে জলাবদ্ধতা ও যানজট পরিস্থিতি আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন নগরবাসী।