বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৬ জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

‘গ্রাহকদের আন্দোলনকে রাজনৈতিক ট্যাগ দেওয়ার সুযোগ নেই’

নিজস্ব প্রতিবেদক : ইসলামী ব্যাংকের নেতৃত্ব, পরিচালনা কাঠামো এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে গ্রাহকদের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। ব্যাংকটির সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আন্দোলনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম।

মঙ্গলবার রাজধানীর মতিঝিলে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুরুন্নবী বলেন, তাদের কর্মসূচির লক্ষ্য কোনো রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করা নয়; বরং ব্যাংকটির সুশাসন, স্বচ্ছতা এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

তিনি দাবি করেন, ইসলামী ব্যাংক একসময় দেশের অন্যতম শক্তিশালী আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অনিয়ম, বিতর্কিত ঋণ বিতরণ এবং আর্থিক দুর্বলতার কারণে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ও কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব পরিস্থিতি থেকে ব্যাংককে পুনরুদ্ধার করাই তাদের আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সচেতন গ্রাহক ফোরামের পক্ষ থেকে ব্যাংকের সাম্প্রতিক নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। বিশেষ করে চেয়ারম্যান নিয়োগ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদত্যাগের ঘটনাকে ঘিরে তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ফোরামের দাবি, ব্যাংকের নেতৃত্বে এমন ব্যক্তিদের দায়িত্ব দিতে হবে, যারা পেশাগতভাবে দক্ষ, সৎ এবং ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে সুপরিচিত।

সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন, ব্যাংক খাতে অতীতে সংঘটিত অনিয়ম ও অর্থ পাচারের অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তারা।

এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ফোরামের নেতারা বলেন, তাদের কর্মসূচিকে রাজনৈতিক পরিচয়ে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই। কারণ আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গ্রাহকদের স্বার্থ, আমানতের নিরাপত্তা এবং ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা।

ফোরামের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে ইসলামী ব্যাংকের শাখাগুলোতে ধারাবাহিক কর্মসূচি চলবে। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচিও ঘোষণা করা হবে।