বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৬ জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন শঙ্কা!

নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকে পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। আর কয়েক দিন পরেই বাজেট।
এমন পরিস্থিতিতে কাঙ্ক্ষিত এই বেতন গ্রেড নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা।

সরকারি চাকরিজীবীরা বলছেন, পে স্কেল নিয়ে যত তথ্য এসেছে, তার সবই গণমাধ্যমের মাধ্যমে। সরকারের মন্ত্রী-এমপি, অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এমনকি পে কমিশনে যুক্ত থাকা ব্যক্তিরাও এ বিষয়ে ন্যূনতম তথ্য শেয়ার করেননি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও এমন অবস্থা দেখা গেছে।
তাই প্রশ্ন উঠছে, আগামী ১ জুলাই থেকেই কি পে স্কেল বাস্তবায়ন হচ্ছে? হলে তা কিভাবে বাস্তবায়ন হবে এ নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মনের ভেতরে একটা ভয় থেকেই যাচ্ছে যে সরকার তো কিছু বলেনি। আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতি মুহূর্তে ব্রিফিং-বিবৃতি দেওয়া হলেও আসন্ন পে স্কেল নিয়ে আজ পর্যন্ত কিছুই দেওয়া হয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে দেয় বা অর্থসচিব দেয় বা আগে যারা যেভাবে দিয়েছিলেন; সেভাবে কিন্তু স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আমরা আজও পাইনি।
যার কারণে কর্মচারীদের মধ্যে এই অনিশ্চয়তাটা তৈরি হয়েছে যে আসলেই কি পে স্কেল হচ্ছে?’

তিনি আরো বলেন, ‘যেই ১১ বছর আমরা অপেক্ষা করেছিলাম এই পে স্কেলটার জন্য এবং আমাদের যে প্রধানমন্ত্রী তিনিও তার নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা করেছেন যে আপনারা জানেন যে ক্ষমতায় এলে তারা পে স্কেল বাস্তবায়ন করবে। ৭ জুন এই সরকারের প্রথম বাজেট এবং আমরা জানি এবার ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার একটা বিশাল বাজেট হতে যাচ্ছে। সেখানে আমাদের এই ভাগ্য নির্ধারণের জন্য আসলে কতটুকু থাকবে বা কতটুকু থাকবে না এটা নিয়ে আমরা খুবই অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি এবং আমরা আশা করি যে এই বাজেটেই আমাদের জন্য বরাদ্দ রাখা হবে এবং কর্মচারীদের এতদিনের যে আশা প্রত্যাশা সেটা পূরণ হবে।’

এদিকে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। তবে প্রথম ধাপেই শতভাগ বেসিক বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে তারা।

রবিবার আহ্বায়ক আবদুল মালেক ও সদস্য সচিব আশিকুল ইসলামের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১১ বছরে কর্মচারীদের বেতনে মৌলিক পরিবর্তন না এলেও দ্রব্যমূল্য ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ফলে অনেক কর্মচারী জীবিকার তাগিদে চাকরির পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা তাদের জন্য লজ্জাজনক।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী, টিভি চ্যানেল জাতীয় পত্রিকার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, তিন ধাপে তিন বছরে ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির মতামত তুলে ধরছেন তারা। অতীতের সব পে স্কেল প্রদানের পূর্বে ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা প্রচলন ছিল এবং দুই ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়ন হওয়ার সঙ্গে এর সমন্বয় করা হতো। প্রথম ধাপে শতভাগ বেসিক বাস্তবায়ন হতো, দ্বিতীয় ধাপে সব ভাতা।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, পুরো নতুন বেতন কাঠামো তিনটি অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী জুলাই মাস থেকেই সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন বেসিক বেতনের অর্ধেক অংশ পেতে শুরু করবেন। পরবর্তী অর্থবছরে বাকি অর্ধেক বেসিক কার্যকর করা হবে। এরপর ২০২৮-২০২৯ অর্থবছরে নতুন পে স্কেলের আওতায় নির্ধারিত বিভিন্ন ভাতা ও সুবিধা ধাপে ধাপে চালু হবে।

জানা গেছে, আগামী ৭ জুন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। সেদিন বিকেল ৩টায় রাষ্ট্রপতির আহ্বানে জাতীয় সংসদ ভবনে এ অধিবেশন শুরু হবে। আগামী ১১ জুন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সংসদে পেশ করবেন। সে দিনই জানা যাবে পে স্কেলে বরাদ্দের বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য।