নিজস্ব প্রতিবেদক : অনলাইন জুয়া পরিচালনা এবং সেই অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। টাঙ্গাইলের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
সোমবার সিআইডির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— টাঙ্গাইল সদরের কাগমারা এলাকার মো. সোলায়মান (৪৭), এনায়েতপুর এলাকার মো. সাগর মিয়া (২৮) এবং মগড়া ইউনিয়নের দিঘীবিল এলাকার মো. জুয়েল রানা (৩২)।
সিআইডি জানায়, রোববার টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সোলায়মানকে কাগমারা ব্রিজসংলগ্ন তাঁর মালিকানাধীন একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর থেকে এবং তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাগর ও জুয়েলকে কলেজপাড়া এলাকার একটি বিকাশ ডিস্ট্রিবিউশন হাউস থেকে আটক করা হয়।
সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) নিয়মিত সাইবার মনিটরিংয়ের সময় দেশের ভেতর ও বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন বেটিং ওয়েবসাইটের কার্যক্রম শনাক্ত করে। পরে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ১৭ মে পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা করা হয়।
তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, অনলাইন বেটিংয়ে অংশগ্রহণকারীদের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ব্যাংক হিসাব এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে অর্থ জমা দিতে উৎসাহিত করা হতো। জমাকৃত অর্থের বিপরীতে বেটিং অ্যাকাউন্টে ভার্চ্যুয়াল ব্যালেন্স যোগ করা হতো, যা পরে অনলাইন জুয়ার কাজে ব্যবহৃত হতো।
সিআইডির দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দেশের বিভিন্ন স্থানে অনলাইন বেটিংয়ের এজেন্ট নিয়োগ করতেন। এসব এজেন্টের এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে জুয়ার অর্থ সংগ্রহ করা হতো। পরে কমিশন কেটে রেখে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অর্থ বিদেশে পাচার করা হতো।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অনলাইন বেটিং কার্যক্রমে ব্যবহৃত এজেন্ট সিম ও আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সিআইডি। এদের মধ্যে সোলায়মান অর্থের বিনিময়ে তার এজেন্ট সিম সাগর মিয়ার কাছে সরবরাহ করতেন। সাগর ও জুয়েল মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের ডিস্ট্রিবিউটর সেলস অফিসার (ডিএসও) হিসেবে কমিশনের বিনিময়ে বিভিন্ন এজেন্ট সিম সংগ্রহ করে দিতেন, যা অনলাইন জুয়ার অর্থ জমা ও উত্তোলনে ব্যবহৃত হতো।
সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক, অবৈধ ই-লেনদেন, অর্থপাচার কার্যক্রম এবং এই চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।