সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৮ জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

বেতন বৃদ্ধির সমান্তরালে দুর্নীতি দমনেও কঠোর হতে হবে: মুনীর চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক : দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক মহাপরিচালক মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী বেতন ভাতা বৃদ্ধির সমান্তরালে সরকারকে কঠোর হাতে দুর্নীতি দমনের আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার বিকালে ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান।

পোস্টে মুনীর চৌধুরী উল্লেখ করেন, সরকারি কর্মকর্তাদের বেপরোয়া দুর্নীতি ও হয়রানির কারণে সরকারি সেবা প্রদান এবং আইনের শাসন ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। শাসনব্যবস্থা সংকটের মূল উৎস দুর্নীতি, যা নির্মূলে সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া ও চীনের সফলতা আমাদের জন্য দৃষ্টান্ত।

বেতন ভাতা প্রবৃদ্ধির পর দুর্নীতির প্রবণতা কোনোভাবেই সহ্য করা উচিত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দায়িত্বে অবহেলা, অকর্মণ্যতা ও অদক্ষতার জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের জবাবদিহির নিশ্চয়তা থাকতে হবে। দুর্নীতি করলেই অনিবার্যভাবে শাস্তি পেতে হবে। সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে এমন মনস্তত্ত্ব তৈরি করতে হবে। প্রচলিত বিভাগীয় মামলার মাধ্যমে দুর্নীতির শাস্তি দেওয়া এখন যৌক্তিকতা হারিয়েছে।

সাবেক এই অতিরিক্ত সচিব লেখেন, সদ্য ঘোষিত বাজেটের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক আমলাতন্ত্র। সুতরাং দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে আইনের নির্মোহ ও নিরপেক্ষ প্রয়োগ, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ জব্দ এবং অপরাধীদের যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, দুর্নীতির মামলা থেকে বাঁচার সব ছিদ্রপথ বন্ধ করতে হবে এবং দুর্নীতিবাজদের রক্ষায় উচ্চমহলের পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেই দুর্নীতি হ্রাস করা সম্ভব, অন্যথায় নয়।

প্রসঙ্গত, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জুলাইয়ের ১ তারিখ থেকে কার্যকর হতে পারে নতুন পে স্কেল। আর এতে অনেকেই আশা প্রকাশ করছেন পে স্কেল কার্যকর হলে দুর্নীতি অনেকাংশেই কমে আসবে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী শুক্রবার বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, বেতন বৃদ্ধি হলে তো দুর্নীতি কমার কথা। এটা তো স্বাভাবিকভাবে মানুষের যখন অভাব থাকে তখন দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া থেকে একটা প্রবণতা থাকে, এটা সব দেশের বেলায় রাইট।

উল্লেখ্য, মুনীর চৌধুরীর নেতৃত্বে বিগত ২০১৮-১৯ সালে দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তাদের গ্রেফতারে শুরু হয়েছিল বিশেষ এনফোর্সমেন্ট অভিযান। যা প্রশাসনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এরপর তাকে সরিয়ে দেওয়া হয় দুদক থেকে।