সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৮ জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্তা : খুলশী থানার ওসি প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রামে বিমানবন্দর থেকে বাসায় ফেরার পথে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর করে থানায় নেওয়া এবং থানায় হেনস্থার ঘটনায় খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

শনিবার রাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর আদেশে তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।

এদিন দিবাগত রাত ১২টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিএমপির মুখপাত্র ও সহকারী পুলিশ কমিশনার (পিআর) আমিনুর রশিদ। তিনি জানান, খুলশী থানার ওসিকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার স্থলে বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমানকে খুলশী থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এর আগে এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। শুক্রবার রাতে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুই পুলিশ সদস্য হলেন- খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. রাসেল চৌধুরী। এ ঘটনায় পুলিশের সোর্স সোহেলকেও আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনার।

উল্লেখ্য, শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর খুলশী থানার লালখান বাজার ফ্লাইওভারের নিচে জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্য নাঈম হাসানকে তল্লাশির নামে সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর রাতেই তিন পুলিশ সদস্যকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় শনিবার খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া ও কনস্টেবল রাসেল চৌধুরীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সিএমপি।

নাঈম হাসানের অভিযোগ অনুযায়ী, শুক্রবার সাভারের বিকেএসপিতে প্রাইম ব্যাংকের হয়ে ম্যাচ খেলে রাত ১০টা ২০ মিনিটের ফ্লাইটে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে পৌঁছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাসায় ফেরার পথে লালখান বাজার এলাকায় পুলিশের একটি গাড়ি তাকে বহনকারী অটোরিকশার গতিরোধ করে।

নাঈম জানান, গাড়ি থামানোর পর কয়েকজন পুলিশ সদস্য চালকের কাছ থেকে কাগজপত্র নিয়ে তাকে গাড়ি থেকে নামতে বলেন। একপর্যায়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। তখন তিনি নিজেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দেন এবং পরিচয়পত্রও দেখান। এরপরও এসআই শফিকুল ইসলাম তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করেন নাঈম। তার দাবি, পুলিশের এক সোর্স পরিচয়ধারী ব্যক্তিও তাকে পাইপ দিয়ে মারধর করেন।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়ে তার পরিচয় নিশ্চিত করলেও মারধর বন্ধ হয়নি; বরং তাকে ‘আসামি’ বলে চুপ থাকতে বলা হয়।

নাঈম আরও বলেন, পরে তাকে খুলশী থানায় নেওয়া হয় এবং ওসির কক্ষেও হেনস্তার শিকার হতে হয়। তার ভাষ্য, প্রথমে ওসি তার সঙ্গে কঠোর আচরণ করলেও পরে একটি ফোনকল পাওয়ার পর আচরণে পরিবর্তন আসে।

তবে খুলশী থানার তৎকালীন ওসি মো. আরিফুর রহমান শনিবার সকালে গণমাধ্যমকে বলেন, বিমানবন্দর থেকে একটি নির্দিষ্ট নম্বরের সিএনজিতে চোরাচালানের মালপত্র বহন করা হচ্ছে-এমন তথ্যের ভিত্তিতে টহল দল অটোরিকশাটি তল্লাশি করেছিল। তবে ওই অভিযানের বিষয়ে তাকে আগাম কিছু জানানো হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

ঘটনার পর শনিবার দুপুরে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী নাঈম হাসানের চান্দগাঁওয়ের বাসায় গিয়ে তার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।