সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৮ জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

মেসির সাগর-ঘেরা স্বপ্নের প্রাসাদ: ৬১১ কোটি টাকার দ্বীপ ম্যানশনে ভেতরে কী আছে

মো. হাফিজ উদ্দিন :


লিওনেল মেসি, বিশ্ব ফুটবলের অমর কিংবদন্তি, তাঁর অসাধারণ ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় এক অত্যাধুনিক ও বিলাসবহুল জীবনযাপন শুরু করেছেন। মায়ামির আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে জেগে ওঠা এক ছোট্ট দ্বীপে অবস্থিত তাঁর ম্যানশনটি শুধু একটি বাড়ি নয়, বরং স্থাপত্যশিল্পের এক অনন্য নিদর্শন, বিলাসিতার প্রতীক এবং পরিবারের সুখের নিরাপদ আশ্রয়। আনুমানিক ৫০ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৬১১ কোটি ২৫ লাখ টাকা (১ ডলার সমান ১২২ টাকা ২৫ পয়সা ধরে) দিয়ে পুরো দ্বীপটিসহ এই বিলাসবহুল সম্পত্তি কিনেছেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার। ফ্লোরিডার মায়ামি বিচ থেকে খানিকটা দূরে অবস্থিত এই দ্বীপটি যেন একটি জাহাজের আকৃতিতে সাগরের বুকে ভেসে আছে। এখানেই মেসির ব্র্যান্ড লোগো অনুসরণ করে গড়ে তোলা হয়েছে তাঁর ব্যক্তিগত ম্যানশন, যা তাঁর সাফল্যের চূড়ান্ত প্রতিফলন।
ম্যানশনটির নকশা করেছেন মায়ামি-ভিত্তিক কিউবান স্থপতি ও অন্দরসজ্জাবিদ জর্জ লুইস ভেলিজ কুইন্তানা। ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত থ্রি-ডি নকশায় দেখা যায়, পুরো স্থাপনাটি ইংরেজি বড় হাতের ‘এম’ আকৃতিতে নির্মিত, যা সরাসরি মেসির নামের আদ্যাক্ষরকে প্রতিনিধিত্ব করে। ফিউচারিস্টিক ধাঁচের এই তিনতলা ম্যানশনের উচ্চতা প্রায় ৮০ ফুট, যা সাধারণ আট তলা ভবনের সমান। মার্বেল পাথর ও কংক্রিটের সমন্বয়ে তৈরি এই বাড়িতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। প্রতিটি কক্ষ, ড্রয়িংরুম, বারান্দা এবং করিডোর থেকে আটলান্টিক মহাসাগরের অপরূপ নীল জলরাশি, ঢেউয়ের গর্জন এবং মায়ামির সোনালি সৈকতের দৃশ্য সরাসরি উপভোগ করা যায়। সমুদ্রের নোনা হাওয়া যেন প্রতি মুহূর্তে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে পরিবেশকে আরও মনোরম ও সতেজ করে তোলে। দ্বীপের চারপাশে শুধু সমুদ্র আর নির্জনতা, যা মেসির মতো একজন তারকার জন্য আদর্শ প্রাইভেট স্বর্গ।
বাড়ির স্থাপত্যে পরিবেশবান্ধব উপাদানের ব্যবহার লক্ষণীয়। সৌরশক্তি-চালিত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের আধুনিক ট্যাংক এবং স্মার্ট হোম টেকনোলজি পুরো ম্যানশনকে টেকসই করে তুলেছে। প্রতিটি কক্ষে অটোমেটিক ক্লাইমেট কন্ট্রোল সিস্টেম রয়েছে, যা ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। উন্নত সিকিউরিটি ক্যামেরা, মোশন সেন্সর এবং ২৪ ঘণ্টা প্রাইভেট সিকিউরিটি টিম মেসি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। বাড়ির বাহ্যিক নকশায় ফুটবলের থিম বারবার ফিরে এসেছে—জানালার গ্রিল, আলোকসজ্জা এবং বাগানের সাজসজ্জায় ছোট ছোট ফুটবল আকৃতির মোটিফ দেখা যায়।
মেসির এই ম্যানশনে রয়েছে ২০টি বিশাল গ্যারেজ। এখানে তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ির বিশাল সংগ্রহ সহজেই সুরক্ষিত রাখা যায়। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডের ফেরারি, ল্যাম্বরগিনি, রোলস রয়েস, পোর্শে এবং বিশেষভাবে কাস্টমাইজড গাড়িগুলো এই গ্যারেজে থাকে। বাড়ির ছাদে তিনটি হেলিপ্যাড রয়েছে, যা হেলিকপ্টার ওঠানামার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এই সুবিধার কারণে মেসি পরিবার যেকোনো সময় মুহূর্তের নোটিশে শহরের অন্য প্রান্তে, অন্য রাজ্যে বা এমনকি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে চলে যেতে পারেন। বাড়ির একটি বিশেষ ঘরে সাদা অক্ষরে বড় করে ‘মেসি’ লেখা থাকে, যা তাঁর ব্যক্তিগত অফিস বা রিল্যাক্সেশন স্পেসকে আরও অর্থপূর্ণ করে তোলে।
অতিথিদের জন্য আলাদা গেস্ট রুমগুলো অত্যন্ত বিলাসবহুল। প্রতিটি রুমে কিং সাইজ বিছানা, প্রাইভেট জ্যাকুজি বাথরুম, সমুদ্রমুখী বারান্দা এবং হাই-এন্ড ফার্নিচার রয়েছে। হোম থিয়েটারটি অত্যাধুনিক সাউন্ড সিস্টেম, ৪কে প্রজেক্টর এবং বড় স্ক্রিন দিয়ে সজ্জিত। এখানে পরিবার মিলে সিনেমা দেখা, মেসির পুরোনো ম্যাচের রেকর্ডিং দেখা বা ছেলেদের সঙ্গে অ্যানিমেশন উপভোগ করা যায়। জিম রুমে আধুনিক ফিটনেস যন্ত্রপাতি, পার্সোনাল ট্রেইনারের স্পেস এবং ইয়োগা এরিয়া রয়েছে, যা মেসির দৈনন্দিন ওয়ার্কআউটের জন্য আদর্শ। স্পা রুমে ম্যাসাজ চেয়ার, স্টিম রুম এবং অ্যারোমাথেরাপি সুবিধা আছে, যেখানে আন্তোনেল্লা রোকুজ্জো রিল্যাক্স করতে পারেন।
বাড়ির ভেতরে ও বাইরে মোট কয়েকটি সুইমিং পুল ছড়িয়ে আছে। এর মধ্যে ইনফিনিটি পুলগুলো সমুদ্রের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। সাঁতার কাটতে কাটতে মনে হয় যেন সাগরের সীমাহীনতায় মিশে যাচ্ছেন। পুলের পাশে আরামদায়ক লাউঞ্জ চেয়ার, আউটডোর বার এবং ডাইনিং এরিয়া রয়েছে। সূর্যাস্তের সময় এখানে বসে পরিবারের সঙ্গে খাবার খাওয়া মেসির জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মুহূর্তগুলোর একটি। বাড়ির পেছনে একটি ফুটবল মাঠ রয়েছে। এখানে মেসি তাঁর তিন পুত্র থিয়াগো, মাতেও ও চিরোর সঙ্গে ছোট ছোট ম্যাচ খেলেন। এই মাঠে তিনি শুধু খেলা শেখান না, বরং ছেলেদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ফুটবল আকৃতির নকশা বাড়ির আলোকসজ্জা, ওয়াল আর্ট এবং ফার্নিচারে বারবার ফিরে এসেছে।
ভিডিও গেম খেলার আলাদা রুমে লেটেস্ট কনসোল, বড় স্ক্রিন এবং আরামদায়ক সোফা রয়েছে। পার্টির জন্য বিশেষ এরিয়ায় ডান্স ফ্লোর, সাউন্ড সিস্টেম এবং বার কাউন্টার আছে। লাইব্রেরি রুমে বইয়ের সংগ্রহ এবং আর্ট ওয়ার্কস রয়েছে। প্রাইভেট সিনেমা হলটি পুরো পরিবারের বিনোদনের জন্য উপযুক্ত। স্থপতি জর্জ লুইসের ভাষায়, এটি একটি রাজকীয় ফিউচারিস্টিক বাড়ি, যেখানে আরামদায়ক ও বিলাসবহুল জীবনযাপনের সব সুবিধা একসঙ্গে পাওয়া যায়। যেকোনো জায়গা থেকে মায়ামির সামুদ্রিক আবহাওয়া ও পরিবেশ উপভোগ করা সম্ভব।
দ্বীপে শুধু এই একটি বাড়ি থাকায় মেসি পরিবারের প্রাইভেসি সম্পূর্ণ নিশ্চিত। বাইরের বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন এই নির্জন স্বর্গে তাঁরা নিশ্চিন্তে সময় কাটাতে পারেন। বাড়ির সামনে সমুদ্রে মেসির ব্যক্তিগত ইয়ট রয়েছে। এছাড়া স্পিডবোট ও আধুনিক নৌকাও আছে, যা দিয়ে পরিবার যেকোনো সময় সমুদ্রভ্রমণে বের হতে পারে। ইয়টে বিলাসবহুল কেবিন, ডাইনিং এরিয়া, ফিশিং সুবিধা এবং এমনকি ছোট জিমও রয়েছে। এই ম্যানশন মূলত পারিবারিক অবকাশযাপন কেন্দ্র বা হলিডে হোম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মেসি পরিবার পাকাপাকিভাবে এখানে থাকেন না, তবে সপ্তাহান্তে বা ছুটিতে এসে বিশ্রাম নেন।
মেসির জীবনের এই পর্যায়ে পরিবারের গুরুত্ব অপরিসীম। স্ত্রী আন্তোনেল্লা রোকুজ্জো এবং তিন পুত্রসন্তান নিয়ে তিনি সুখের সংসার পেতেছেন। বার্সেলোনায় ২১ বছরের দীর্ঘ সম্পর্কের পর পিএসজি হয়ে ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর পরিবারকে নতুন পরিবেশে স্থিতিশীল করতে এই সম্পত্তিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মায়ামির পোর্শে ডিজাইন টাওয়ারে মেসির প্রধান বাসস্থান হলো ৩ হাজার ৫৫৫ বর্গফুটের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। এর দাম প্রায় ৫ মিলিয়ন ডলার বা ৬১ কোটি টাকা। ৬০ তলা এই টাওয়ারের উচ্চতা ৬৪১ ফুট। ২০১৬ সালে নির্মাণ সম্পন্ন হওয়া এই টাওয়ারে মেসির ফ্ল্যাটে রয়েছে ৩টি বেডরুম, ৪টি বাথরুম, ২টি ড্রয়িংরুম এবং ২টি বারান্দা।
এখানে জিম, স্পা এবং স্কাই গ্যারাজসহ সব আধুনিক সুবিধা বিদ্যমান। সবচেয়ে আকর্ষণীয় ফিচার হলো ‘ডেজারভেটর’ নামের বিশেষ লিফট। এই লিফটে করে গাড়ি সরাসরি ফ্ল্যাটের ভেতরে নিয়ে যাওয়া যায়। মেসি চাইলে গাড়িতে উঠে সরাসরি রাস্তায় বেরিয়ে যেতে পারেন। টাওয়ারে মেক্সিকান বিলিয়নিয়ার কার্লোস পেরাল্টা কুইন্টেরো এবং পুয়ের্তোরিকান র‍্যাপার অ্যানুয়েলের মতো বিখ্যাত ব্যক্তিরা বাস করেন। এই ফ্ল্যাট থেকে মায়ামি বিচের দৃশ্য অসাধারণ।
মেসির বিশ্বব্যাপী সম্পত্তির সংখ্যা অন্তত পাঁচটি। আর্জেন্টিনার রোজারিওতে তাঁর শৈশবের বাড়ি, স্পেনের বার্সেলোনার ক্যাসটেলল্ডিফেলসে বিলাসবহুল ভিলা এবং ফ্লোরিডার ফোর্ট লডারডেলের বে কলোনির গেটেড কমিউনিটিতে আরেকটি বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি ফ্লোরিডায় অবস্থিত। প্রতিটি সম্পত্তিতে নিরাপত্তা, আরাম এবং পরিবারের সুবিধাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। রোজারিওর বাড়িটি তাঁর আবেগের জায়গা, যেখানে শৈশবের স্মৃতি জড়িয়ে আছে। বার্সেলোনার ভিলায় ইউরোপিয়ান স্টাইলের সাজসজ্জা লক্ষণীয়। ফোর্ট লডারডেলের বাড়িটি শান্ত ও নির্জন পরিবেশের জন্য আদর্শ।
মেসির এই বিলাসবহুল জীবন তাঁর দীর্ঘ সংগ্রাম ও সাফল্যের ফসল। বার্সেলোনা থেকে পিএসজি হয়ে ইন্টার মায়ামিতে আসার পর তিনি পরিবারের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানোর সুযোগ পেয়েছেন। দ্বীপ ম্যানশনে ছেলেদের সঙ্গে ফুটবল খেলা, ইয়টে ভ্রমণ, পুলে সাঁতার কাটা—এসব মুহূর্ত তাঁকে ফুটবলের চাপ থেকে মুক্তি দেয়। আন্তোনেল্লা রোকুজ্জো এসব স্পেসকে উষ্ণ ও পরিবারমুখী করে তুলেছেন। বাড়ির অন্দরসজ্জায় আর্জেন্টাইন সংস্কৃতির ছোঁয়া, ট্রফি ডিসপ্লে এবং পরিবারের ছবি সাজানো রয়েছে।
পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার এই ম্যানশনকে আরও আধুনিক করেছে। সৌরশক্তি, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা, স্মার্ট হোম টেকনোলজি, অটোমেটিক ক্লাইমেট কন্ট্রোল এবং উন্নত সিকিউরিটি সিস্টেম এখানে একীভূত। এসব ফিচার শুধু বিলাসিতা নয়, টেকসইতারও প্রতীক। মেসির উপস্থিতি মায়ামির পর্যটন ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ইন্টার মায়ামির মাধ্যমে এমএলএস লিগকে তিনি জনপ্রিয় করছেন।
তাঁর সম্পত্তিগুলো ভবিষ্যতে চ্যারিটি ইভেন্ট বা ফুটবল অ্যাকাডেমি হিসেবেও ব্যবহার হতে পারে। মেসির জীবন শুধু ফুটবল নয়, পরিবার, স্বপ্ন এবং সাফল্যের সমন্বয়। এই ৬১১ কোটি টাকার বাড়ি তাঁর সেই স্বপ্নের বাস্তব রূপ। দ্বীপের নির্জনতায় বসে সমুদ্র দেখতে দেখতে মেসি হয়তো নতুন স্বপ্ন দেখেন। তাঁর ছেলেরা এখানে বড় হয়ে উঠবে, খেলবে এবং হয়তো একদিন বাবার পথ অনুসরণ করবে। মেসির এই বিলাসবহুল জীবনযাপন ফ্যানদের অনুপ্রাণিত করে, দেখায় যে কঠোর পরিশ্রমের ফল কতটা সুন্দর হতে পারে।
মায়ামির এই দ্বীপ ম্যানশন এবং পোর্শে টাওয়ারের ফ্ল্যাট মেসির নতুন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতিটি কক্ষে সমুদ্রের দৃশ্য, প্রতিটি মুহূর্তে পরিবারের হাসি এবং প্রতিটি দিনে নতুন অনুপ্রেরণা—এসব মিলে তাঁর জীবনকে করে তুলেছে আরও সমৃদ্ধ। বিশ্বের কোটি কোটি ফ্যান মেসিকে শুধু মাঠে নয়, এই ব্যক্তিগত জীবনেও অনুসরণ করে। তাঁর এই বাড়িগুলো শুধু বিলাসিতার প্রতীক নয়, বরং সফলতার, পরিবারের এবং স্বপ্নপূরণের গল্প বলে। মেসির মতো কিংবদন্তির জীবন থেকে আমরা শিখতে পারি যে, লক্ষ্য অর্জনের পরও সাধারণ আনন্দগুলোকে কখনো ভুলে যাওয়া উচিত নয়। এই বিশাল সম্পত্তির প্রতিটি কোণায় লুকিয়ে আছে সেই সাধারণ আনন্দেরই বড় একটা অংশ।
দ্বীপ ম্যানশনের প্রতিটি বিস্তারিত অংশ মেসির ব্যক্তিত্বকে প্রতিফলিত করে। ফুটবল মাঠ থেকে শুরু করে ইয়ট পর্যন্ত সবকিছু তাঁর জীবনধারার সঙ্গে মিলে যায়। আন্তোনেল্লা এখানে পরিবারের জন্য বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। ছেলেরা এখানে স্বাধীনভাবে খেলাধুলা করে বেড়ে ওঠে। মেসি নিজে এই জায়গায় বসে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করেন। এই বাড়ি শুধু বিলাসিতা নয়, বরং একটি জীবন্ত স্মৃতির সংগ্রহশালা।