শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১২ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১০ মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

শিক্ষক সংকট ও নিরাপত্তাহীনতায় বিপর্যস্ত পূবাইলের ম্যাটস, দুর্ভোগে শিক্ষার্থীরা

পূবাইল (গাজীপুর) প্রতিনিধি : স্বল্প খরচে চিকিৎসা শিক্ষা গ্রহণ করে দেশের স্বাস্থ্যখাতে অবদান রাখার স্বপ্ন নিয়ে গাজীপুরের মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস)-এ ভর্তি হয়েছিল শিক্ষার্থীরা। তবে শিক্ষক সংকট, নিরাপত্তাহীনতা, আবাসন ও খাবার ব্যবস্থাপনার নানা সমস্যায় বর্তমানে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাবে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।


গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল এলাকায় ২০২২ সালে যাত্রা শুরু করে সরকারি মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস)। চার বছর মেয়াদি এই কোর্সের মাধ্যমে চিকিৎসা সহকারী তৈরির লক্ষ্য নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হলেও নানা সংকটের কারণে প্রতিষ্ঠানটি কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছাতে পারছে না। প্রতি বর্ষে ৩২ জন করে মোট ৯৬ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ থাকলেও গত তিন বছরে ভর্তি হয়েছেন মাত্র ৭২ জন শিক্ষার্থী। সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও সুযোগ-সুবিধার ঘাটতির কারণে ভর্তিচ্ছুদের আগ্রহও কমছে।


শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও হোস্টেলের পরিচ্ছন্নতা রক্ষা, রান্নার কর্মীর বেতন এবং বিভিন্ন আনুষঙ্গিক ব্যয় তাদের নিজেদের বহন করতে হচ্ছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত আর্থিক চাপের মুখে পড়ছেন।


তাদের দাবি, একই ভবনে ছেলে ও মেয়েদের হোস্টেল পরিচালিত হলেও সেখানে কোনো হোস্টেল সুপার নেই। এমনকি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যও কোনো নিরাপত্তাকর্মী নিয়োজিত নেই। ফলে আবাসিক শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।


প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রানা বলেন, “আমরা অনেক দূর থেকে এসে এখানে থাকি। কিন্তু হোস্টেলে পর্যাপ্ত তদারকি নেই। নিরাপত্তা নিয়েও সবসময় উদ্বেগে থাকতে হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন খরচও নিজেদের বহন করতে হচ্ছে।”
দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকটের কারণে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সময় ক্লাস স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হয় না, যা আমাদের শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।”
শিক্ষার্থীরা জানান, বর্তমানে মাত্র তিনজন শিক্ষক দিয়ে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক সংখ্যা অত্যন্ত কম হওয়ায় পাঠদান, ব্যবহারিক শিক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।


এদিকে শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ডা. জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে অনিয়মিতভাবে অফিসে উপস্থিত থাকার অভিযোগও তুলেছেন। তাদের দাবি, তিনি সপ্তাহে মাত্র এক বা দুই দিন অফিসে আসেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যক্ষ ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “অভিযোগটি সঠিক নয়।”


ব্যবহারিক শিক্ষার ক্ষেত্রেও রয়েছে ভোগান্তি। শিক্ষার্থীদের প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসের জন্য টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে যেতে হয়। এতে প্রতিদিন যাতায়াত, খাবার ও অন্যান্য খাতে অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য এই ব্যয় কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে।


শিক্ষার্থীদের মতে, শিক্ষক সংকট, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আবাসন সমস্যা এবং প্রশাসনিক দুর্বলতা দ্রুত সমাধান না হলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে নতুন শিক্ষার্থীদের ভর্তির আগ্রহও কমে যাবে।
তারা দ্রুত প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ, হোস্টেলে নিরাপত্তাকর্মী ও সুপার নিয়োগ, আবাসন ও খাবারের মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।


এ বিষয়ে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক বলেন, “শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সিভিল সার্জনের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”