রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৪ সফর, ১৪৪৮ হিজরি

মহারণের আগে কেমন প্রস্তুতিতে দুই ফাইনালিস্ট?

স্পোর্টস ডেস্ক : আর মাত্র একটি ম্যাচ। তারপরই নির্ধারিত হবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের নতুন চ্যাম্পিয়ন। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালে মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। শিরোপা নির্ধারণী এই লড়াইয়ের আগে দুই দলই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। কোচদের লক্ষ্য একটাই সেরা একাদশ নিয়ে মাঠে নেমে বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তোলা।

আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠেছে কঠিন পথ পেরিয়ে। নকআউট পর্বে তারা ধারাবাহিকভাবে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও ম্যাচ ব্যবস্থাপনার দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। কোচ লিওনেল স্কালোনির দল শেষ কয়েক দিনে মূলত পুনরুদ্ধারমূলক অনুশীলন, বল দখল ধরে রাখার অনুশীলন এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিভিত্তিক কৌশল নিয়ে কাজ করেছে। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সেট-পিস এবং দ্রুত রক্ষণ থেকে আক্রমণে রূপান্তরের অনুশীলনে। লিওনেল মেসিকে ঘিরে আক্রমণ সাজানোর পাশাপাশি জুলিয়ান আলভারেস, এনসো ফার্নান্দেস, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও রদ্রিগো ডি পলের সমন্বয় নিয়েও কাজ করেছে দলটি।

অন্যদিকে স্পেনের প্রস্তুতির মূল লক্ষ্য নিজেদের স্বাভাবিক পজেশনভিত্তিক ফুটবল ধরে রাখা। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে চান, তার দল যেন শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে পারে। অনুশীলনে ছোট ছোট পাস, উচ্চমাত্রার প্রেসিং এবং বল হারানোর পর দ্রুত পুনরুদ্ধারের বিষয়গুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তরুণ লামিন ইয়ামাল, নিকো উইলিয়ামস, দানি ওলমো, মাঝমাঠে রদ্রি ও ফাবিয়ান রুইস সবাইকে নিয়ে আক্রমণ ও রক্ষণে ভারসাম্য বজায় রাখার পরিকল্পনা করছে স্পেন।

দুই দলের চিকিৎসক ও ফিটনেস স্টাফরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচ হওয়ায় খেলোয়াড়দের শারীরিক ক্লান্তি কাটিয়ে সর্বোচ্চ ফিট অবস্থায় মাঠে নামানোই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বড় কোনো নতুন চোটের খবর না থাকলে দুই দলই তাদের সেরা শক্তি নিয়েই ফাইনালে নামবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কৌশলগত দিক থেকেও ফাইনালটি হতে পারে ভিন্ন দুই ফুটবল দর্শনের লড়াই। আর্জেন্টিনা প্রয়োজনে ম্যাচের গতি কমিয়ে প্রতিপক্ষের ভুলের অপেক্ষা করতে পারে, আবার সুযোগ পেলে দ্রুত আক্রমণে উঠতেও সক্ষম। স্পেন বরাবরের মতো বলের দখল ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে চাইবে। ফলে মাঝমাঠের লড়াই এবং বলের নিয়ন্ত্রণই ম্যাচের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

ফাইনালের আগে দুই দলেরই আত্মবিশ্বাসের কমতি নেই। আর্জেন্টিনা চাইছে ২০২২ সালের পর টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়তে। অন্যদিকে স্পেনের লক্ষ্য ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া। তাই মহারণের আগে প্রস্তুতির প্রতিটি মুহূর্তই এখন মূল্যবান। কারণ একটি সিদ্ধান্ত, একটি কৌশল কিংবা একটি মুহূর্তই নির্ধারণ করে দিতে পারে বিশ্বকাপ ট্রফি উঠবে মেসিদের হাতে, নাকি ইয়ামালদের।