রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৪ সফর, ১৪৪৮ হিজরি

বিশ্বকাপের অনাকাঙ্ক্ষিত ম্যাচে মুখোমুখি ফ্রান্স-ইংল্যান্ড

স্পোর্টস ডেস্ক : ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শুরুতে অনেকেই ধারণা করেছিলেন, ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের দেখা হবে হয়তো ফাইনালে। ইউরোপের দুই পরাশক্তিই ছিল শিরোপার অন্যতম দাবিদার। কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হলো না। সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে ফ্রান্স এবং আর্জেন্টিনার কাছে পরাজিত হয়ে ইংল্যান্ড এখন মুখোমুখি হচ্ছে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে। যে ম্যাচের জন্য কোনো দলই পরিকল্পনা করে না, সেই অনাকাঙ্ক্ষিত লড়াইয়েই নামতে হচ্ছে দুই ফুটবল শক্তিকে।

পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ফ্রান্স ছিল অন্যতম আক্রমণাত্মক দল। কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল অলিসের গতিময় আক্রমণ প্রতিপক্ষের রক্ষণকে বারবার বিপাকে ফেলেছে। তবে সেমিফাইনালে স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ ও কার্যকর ফুটবলের সামনে সেই আক্রমণভাগ নিজেদের সেরা ছন্দ খুঁজে পায়নি। ফলে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায় দিদিয়ের দেশঁর দলের।

অন্যদিকে ইংল্যান্ডও দীর্ঘদিন পর বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় এসেছিল। থমাস টুখেলের অধীনে দলটি নকআউট পর্বে ভারসাম্যপূর্ণ ফুটবল খেললেও সেমিফাইনালে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বাধা টপকাতে পারেনি। হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহাম, বুকায়ো সাকা ও ফিল ফোডেনদের নিয়ে গড়া দলটি এবারও শিরোপার খুব কাছে গিয়েও থেমে গেল।

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচকে অনেকেই আনুষ্ঠানিকতা মনে করলেও ইতিহাস বলছে, এই ম্যাচের গুরুত্ব কম নয়। বিশ্বকাপ শেষ করার আগে সম্মানজনক জয়, ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ইতিবাচক প্রভাব এবং ভবিষ্যতের জন্য আত্মবিশ্বাস সবকিছুই নির্ভর করতে পারে এই ম্যাচের ওপর। অনেক তরুণ ফুটবলারের জন্যও এটি বড় মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার শেষ সুযোগ।

ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের সাম্প্রতিক লড়াইগুলোও বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স ২-১ গোলে ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিল। সেই ম্যাচে অরেলিয়েন চুয়ামেনি ও অলিভিয়ে জিরু ফ্রান্সের হয়ে গোল করেন, আর ইংল্যান্ডের একমাত্র গোলটি আসে হ্যারি কেইনের পেনাল্টি থেকে। ম্যাচের শেষ দিকে দ্বিতীয় পেনাল্টি পেলেও সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট করেন কেইন। চার বছর পর আবার বিশ্বকাপের মঞ্চে দুই দলের দেখা হচ্ছে, যদিও এবার লক্ষ্য শিরোপা নয়, তৃতীয় স্থান।

এই ম্যাচ তাই শুধু সান্ত্বনার লড়াই নয়। এটি দুই হতাশ পরাশক্তির আত্মমর্যাদা রক্ষার লড়াইও। একটি জয় পুরো বিশ্বকাপের হতাশা মুছে দিতে না পারলেও শেষ স্মৃতিটাকে কিছুটা হলেও সুখের করে তুলতে পারে।