মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৬ সফর, ১৪৪৮ হিজরি

শিশুদের রক্তে সিসার বিষ, সচেতনতায় র‍্যালি

নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘সিসা দূষণ বন্ধ করি, সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে ময়মনসিংহ ও সিলেটে সচেতনতামূলক র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা পিওর আর্থ ও ইয়াং ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক-ইউক্যান যৌথ উদ্যোগে ১৮ জুলাই ময়মনসিংহে এবং ১৯ জুলাই সিলেটে এ র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় তাদের হাতে সিসা দূষণ বন্ধ হলে, বাড়বে শিশু বুদ্ধি-বলে’, ‘সিসামুক্ত বাংলাদেশ চাই’ এবং ‘শিশুর নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করি’ ইত্যাদি সিসা দূষণবিরোধী ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এ ছাড়া বিভিন্ন সচেতনতামূলক স্লোগান দেন তারা।

আয়োজকরা জানান, বাংলাদেশ সিসা দূষণের উচ্চঝুঁকির দেশগুলোর একটি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, পাঁচ বছরের কম বয়সী ৩৮ দশমিক ৩ শতাংশ শিশুর রক্তে সিসার মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত রেফারেন্স মাত্রা ৫ মাইক্রোগ্রাম পার ডেসিলিটারের বেশি।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকায় ৬৫ শতাংশ শিশুর রক্তে উচ্চমাত্রার সিসা পাওয়া গেছে। সিলেটে এই হার ৪৬ দশমিক ৭ শতাংশ এবং চট্টগ্রামে ৪২ দশমিক ১ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অল্প পরিমাণ সিসাও শিশুদের জন্য ক্ষতিকর। এটি মস্তিষ্কের বিকাশে বাধা দিতে পারে।
কমাতে পারে বুদ্ধিমত্তা ও শেখার সক্ষমতা। সৃষ্টি করতে পারে মনোযোগ ও আচরণগত সমস্যা।

সিসা দূষণের বিভিন্ন উৎসের মধ্যে রয়েছে– দেয়ালের রং, অ্যালুমিনিয়াম ও সিরামিকের বাসনপত্র, পানির পাইপ, মসলা, প্রসাধনী ও খেলনা। পুরোনো সিসা-অ্যাসিড ব্যাটারির অনিরাপদ ও অবৈধ পুনর্ব্যবহারও দূষণের অন্যতম বড় উৎস।

পিওর আর্থ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, শিশুদের সুরক্ষায় ভোগ্যপণ্যে সিসার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
পাশাপাশি নিরাপদ ব্যাটারি পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। বাড়াতে হবে জনসচেতনতা।

ইউক্যান-এর কমিউনিকেশন অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ কোঅর্ডিনেটর আশরাফুল ইসলাম অয়ন বলেন, ‘সিসা দূষণ একটি নীরব জনস্বাস্থ্য সংকট, যা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করছে শিশুদের। তরুণদের এখন শুধু সচেতনতা তৈরিতে নয়, নিজেদের পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটিতে সিসার ঝুঁকি শনাক্ত ও প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।’

তিনি বলেন, নতুন সরকারের উচিত সিসাকে জাতীয় জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে অবৈধ ব্যাটারি পুনর্ব্যবহার বন্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা, ভোগ্যপণ্যে সিসার ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর আইন বাস্তবায়ন এবং উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত রক্তে সিসা পরীক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

কর্মসূচি শেষে আয়োজকরা পাঁচ দফা সুপারিশ তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—সিসাকে বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য হিসেবে ঘোষণা করে জাতীয় কৌশল প্রণয়ন, শিশু ও গর্ভবতী নারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে রক্তে সিসার মাত্রা পরীক্ষা, ভোগ্যপণ্যে সিসার ব্যবহার বন্ধে কঠোর মানদণ্ড প্রণয়ন এবং অবৈধ ব্যাটারি পুনর্ব্যবহার বন্ধ করা।

এ ছাড়া সিসা দূষিত এলাকা চিহ্নিত করে পরিবেশ পুনর্বাসন, গবেষণা ও নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। সিসা দূষণের ঝুঁকি ও প্রতিরোধে সরকার, শিল্প খাত, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।