শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ সফর, ১৪৪৮ হিজরি

বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য ৪৫ লাখ টাকা দাবি

গুইমারা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি : বিদ্যুৎ বিভাগের অসহযোগিতা ও অবহেলার কারণে খাগড়াছড়ি জেলার নবগঠিত গুইমারা উপজেলা প্রশাসনিক ভবনের প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু করা যাচ্ছে না। ফলে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

জানা যায়, গুইমারা উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে ২০২৩ সালে প্রশাসনিক ভবন নির্মান কাজ শুরু হয়। ৪ দফা সময় বাড়িয়ে কাজ সমাপ্ত করে এস অনন্ত ট্রেডার্স। ১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যায়ে নির্মিত ৪ তলা ভবনে বিদ্যুৎ লাইন সংযোগ ও সরবরাহ বাবদ ২ লাখ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগের বরাদ্দ থাকলেও বিদ্যুৎ বিভাগের অসহযোগিতার কারণে নির্মানকারী প্রতিষ্ঠান সংযোগ দিতে পারছে না।

এ বিষয়ে গুইমারা উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী রুহুল কুদ্দুস নাঈম জানান, প্রশাসনিক ভবনের শতভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ পেলেই পুরোদমে প্রশানিক কাজ চালু করা যাবে।

তিনি জানান, উপজেলা ভবনের পাশেই পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসে বিদ্যুৎ সংযোগ আছে। কিন্তু প্রশাসনিক ভবনে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে বড় ধরনের অর্থ বাজেটের চাহিদা দিচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ, যা নতুন উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অসম্ভব।

তিনি আরও বলেন, কন্ট্রাক্টরের লোকজন ৫টি খাম্বা তার ও থ্রি পেইজ ট্রান্সফর্মা বাবদ ৪ লক্ষ টাকা দিতে চাইলেও বিদ্যুৎ বিভাগের সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

কেন বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে পারছে না জানতে চাইলে এস অনন্ত কন্সট্রাকশনের বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্বে থাকা মো. মোস্তফা জানান, আমরা মাটিরাঙ্গা আবাসিক প্রকৌশলী ও জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে আবেদন করেও বিদ্যুৎ সংযোগ পাচ্ছি না।

এ ব্যাপারে মাটিরাঙ্গা বিদ্যুৎ বিভাগের আবাসিক প্রকৌশলী জিয়া উদ্দীনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ভবনে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে হলে ৪৫ লাখ টাকা জমা দিতে হবে। তারপর সংযোগ দেওয়া হবে। এ বিষয়টি জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী বিস্তারিত বলতে পারবেন।

জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী কুন্তল সরকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এক সপ্তাহ আগে যোগদান করেছি। এ বিষয়ে গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আমি সরেজমিনে গিয়ে দেখব কি করা যায়।’

এ বিষয়ে গুইমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিসকাতুল তামান্না বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে কিন্তু আজও বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়া যায়নি। বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়া তো কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব না। দ্রত বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে গুইমারা উপজেলা প্রতিষ্ঠার পর থেকে গুইমারা ইউনিয়ন পরিষদের ভবনে অস্থায়ীভাবে উপজেলার কার্যক্রম চলে আসছে। প্রশাসনিক ভবন না থাকায় বিভিন্ন দপ্তরের কাজ এখনো চালু হয়নি। তবে, যে কয়েকটি দপ্তরের কাজ চালু রয়েছে, ভাড়া বাসায়।