শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১০ সফর, ১৪৪৮ হিজরি

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাঠানো একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আল-জাইদির মাধ্যমে তেহরানে এই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল বলে এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

ইরানি ও ইরাকি কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর তিনি একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিয়ে তেহরান সফরে যান এবং ট্রাম্পের পাঠানো প্রস্তাবটি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, স্পিকার বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রস্তাবটি হস্তান্তর করেন।

নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, প্রস্তাবটির বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে ইরানি কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ কার থাকবে—তা নির্ধারণ না করে কেবল একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি গ্রহণে তেহরান আগ্রহী নয়।

এ বিষয়ে বিষয়টি ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠিানিক বিবৃতি আসেনি। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাষ্ট্রীয় টিভিতে জানিয়েছেন, মূল সমস্যা বার্তা আদান-প্রদান বা মধ্যস্থতাকারীর অভাব নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গিই অযৌক্তিক, লোভী এবং নিয়ন্ত্রণকামী।

ইরানি কর্মকর্তারা আরও বলেছেন, বৈঠকে পূর্বে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোর বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি উভয় সরকার বাণিজ্য, জ্বালানি, পরিবহন ও আঞ্চলিক বিষয়ে বৃহত্তর সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন যদি তেহরানের মূল ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে আরও বড় ধরনের হামলা চালায়, তবে ইরান সংঘাত আঞ্চলিকভাবে বিস্তৃত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দুই ইরানি কর্মকর্তা। এক্ষেত্রে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তেল আবিবে হামলা চালানো এবং হুথি মিত্রদের মাধ্যমে লোহিত সাগরের বাব এল-মানদাব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে তেহরান।

এদিকে যুদ্ধবিরতি আলোচনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, ড্রোন সংরক্ষণাগার ও উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র লক্ষ্য করে টানা ১৩তম রাতের মতো বিমান হামলা চালিয়েছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বাহরাইন ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির সেনাবাহিনী বলেছে, বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটির জ্বালানি ট্যাংক, সরঞ্জাম গুদাম এবং সৈন্যদের আবাসস্থল লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়াও জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি (আল-আজরাক) বিমানঘাঁটির বিমান হ্যাঙ্গার, রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র এবং আবাসন এলাকাতেও সফল হামলা চালানো হয়েছে।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস, আলজাজিরা