সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩০ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২ রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

কেন রাতে বাসা থেকে বের হন বাইকে থাকা ওই তরুণী, বিপদে বাইকচালক

মুক্তবাণী রিপোর্ট : রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে গভীর রাতে দুই যুবকের মাঝখানে মোটরসাইকেলে বসে থাকা যে তরুণীকে নিস্তেজ অবস্থায় দেখা যায়, তিনি মদ্যপ ছিলেন বলে জানিয়েছেন তার বড় বোন। এর আগে মোটরসাইকেলে ওই তরুণীর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন নেটিজেনরা।

শুক্রবার বিকেলে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন ওই তরুণী। ২৬ বছর বয়সী মেয়েটি জানান, বর্তমানে তিনি সুস্থ ও ভালো আছেন। দুদিন পর সরাসরি দেখা করে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন বলে ফোনে কথা শেষ করেন তিনি। তবে এ সময় তার বড় বোন ও দুলাভাইয়ের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা হয়। জানা গেছে, তাদের গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায়।

তাদের দুজনের ভাষ্য, বুধবার স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার পর অভিমান করে টঙ্গীর বাসা ছেড়ে বেরিয়ে যান তরুণী। ওই ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে তিনি বাসা থেকে বের হন বলে দাবি করেন তারা।

মোটরসাইকেলটির চালকের আসনে যে যুবককে দেখা যায়, তার বাড়ি রাজেন্দ্রপুর। নামের শেষাংশ ‘আলম’। তিনি বিবাহিত।

তরুণীর দুলাভাই বলেন, ‘চুমকি (ছদ্মনাম) কখনো ড্রিংকস করে নাই। সেদিন আমরা স্বামী-স্ত্রী ঝগড়া করছিলাম। এটা দেখে ও রাগ করে চলে যায়। তারপর হয়তো উত্তরার বারে গিয়ে ড্রিংকস করে। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়লে ছেলেগুলো বাসায় দিয়ে যায়।’

আলম তার স্বামী কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিয়ে করবে বলে শুনেছি।’

এই তরুণী এর আগে দুটি বিয়ে করেছেন।

মিতুর বোন বলেন, ‘ওর কিছুদিন আগে ডিভোর্স হয়েছে। তাই আমার কাছে এনে রেখেছি। সেদিন রাগ করে চলে যায়। ওর দুলাভাই আমার গায়ে হাত তুলেছিল। এটা ও মানতে পারেনি। এরপর বারে অসুস্থ হওয়ার পর আলম আর তার বন্ধু ওকে নিয়ে টঙ্গীতে আমার বাসায় আসার চেষ্টা করে। কিন্তু এই অবস্থায় টঙ্গীতে না গিয়ে তারা মিরপুর চলে যায়। সেখানে এক বান্ধবীর বাসায় রেখে আমাকে ফোন দেয়।’

তরুণীর বোন বলেন, ‘আলম এখন পারিবারিকভাবে ঝামেলায় আছে। ওর সংসার আছে, মেয়ে আছে। আমার বোনকে পৌঁছে দিতে গিয়ে সে বিপদে পড়েছে।’

বুধবার গভীর রাতে আনুমানিক ৩টা ১৫ থেকে ৩টা ২০ মিনিটের মধ্যে ঢাকার সড়কে একটি মোটরসাইকেলে তিনজনকে দেখতে পান এক ব্যক্তি। ওমরাহ পালন শেষে বগুড়ায় ফেরার সময় মুফতি মনোয়ার হোসেন আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গী পর্যন্ত মোটরসাইকেলটির পেছনে যান। তার নজরে আসে, চালকের পেছনে থাকা এক যুবক একটি তরুণীকে শক্ত করে ধরে রেখেছেন। তরুণীর পা দুটো ছিল খালি এবং অস্বাভাবিকভাবে নিচের দিকে ঝুলছিল।

মনোয়ার হোসেনের কাছে দৃশ্যটি স্বাভাবিক মনে হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা অনুযায়ী, ‘জাগ্রত বা জীবন্ত মানুষের এমনভাবে পা ঝোলার কথা না।’ এতে মেয়েটি মৃত নাকি অচেতন ছিলেন, তা নিয়ে তার মধ্যে গভীর সন্দেহ তৈরি হয়। পরে তার পোস্ট ভাইরাল হলে শত শত মানুষ কমেন্ট করে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন।