মুক্তবাণী রিপোর্ট : পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশ যোগ দেওয়ার প্রস্তাব পেলে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বাংলাদেশের এই অবস্থানের বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, জাতীয় নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলে—এমন সব বিষয়ের ওপর তারা সার্বক্ষণিক নজর রাখে। একই সময়ে পাকিস্তান জানিয়েছে, বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে আগ্রহ প্রকাশ করলে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশ যুক্ত হওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশকে এতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলে সরকার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখবে।
এর আগে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও জানিয়েছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যের কোনো নিরাপত্তাব্যবস্থায় বাংলাদেশকে যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হলে সেটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে।
বাংলাদেশের এই অবস্থান নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের কাছে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকেরা। এক সাংবাদিক পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সংসদে দেওয়া বক্তব্য তাঁর দৃষ্টিগোচর করেন।
জবাবে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলে—এমন সব বিষয়ের ওপর তারা সার্বক্ষণিক নজর রাখেন।
এদিকে বাংলাদেশের সম্ভাব্য আগ্রহ নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থানও জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি বলেন, বাংলাদেশ যদি এতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব বা আগ্রহ প্রকাশ করে, তাহলে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
তাহির আন্দ্রাবির ভাষ্য অনুযায়ী, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি একটি প্রতিরক্ষামূলক কাঠামো। এর লক্ষ্য অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করা।
তিনি আরও বলেন, এটি একটি ক্রমবিকাশমান নিরাপত্তাব্যবস্থা। যৌথ দায়িত্ব ও নিরাপত্তার স্বার্থে অভিন্ন অঙ্গীকার রয়েছে—এমন দেশগুলো এতে যুক্ত হতে পারবে।
বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এতে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দিলে সৌদি আরব ও তুরস্কের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তবে চুক্তিটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, রংপুরে এক শিক্ষক, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন করা হয় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রকে। রণধীর জয়সওয়াল বলেন, বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে ভারত উদ্বিগ্ন। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বাংলাদেশ সরকারের।