☰

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৮ রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

মাইজদী হাসপাতাল রোডে উচ্ছেদ অভিযান, শেষ হতে না হতেই ফের হকারদের দখল

নোয়াখালী প্রতিনিধি : নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীর গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল রোডে অবৈধ দখল ও ফুটপাতের হকার উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবে অভিযান শেষ হতে না হতেই উচ্ছেদ করা স্থানগুলোতে আবারও দোকানপাট ও পসরা সাজিয়ে বসেছেন হকার ও ব্যবসায়ীরা। এতে পথচারীদের চলাচল নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে ভোগান্তি ও ক্ষোভ।
‎
‎মঙ্গলবার বিকেলে নোয়াখালী জেলা প্রশাসন ও সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহনেওয়াজ তানভীর এর নেতৃত্বে মাইজদী আমানিয়া হোটেলের সামনে থেকে এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়। পরে অভিযানটি সুধারাম মডেল থানার সামনে থেকে প্রাইম হাসপাতালের সামনের সড়ক হয়ে জেনারেল হাসপাতালের সামনের পশ্চিম পাশে গিয়ে শেষ হয়।
‎
‎অভিযান চলাকালে সড়কের পাশে ফুটপাত ও রাস্তার অংশ দখল করে রাখা বিভিন্ন অস্থায়ী দোকান, হকারদের পসরা এবং অন্যান্য স্থাপনা সরিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়।
‎
‎অভিযানে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মাদ শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন, নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলোসহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
‎
‎অভিযান শেষে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা এবং সড়কে যানজট কমাতে ফুটপাত ও সড়কের ওপর অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
‎
‎তবে অভিযানের পরপরই দেখা যায়, উচ্ছেদ করা কয়েকটি স্থানে আবারও হকার ও দোকানদাররা বসতে শুরু করেছেন। কেউ কেউ আগের মতো পসরা সাজিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। ফলে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
‎
‎স্থানীয় পথচারীদের অভিযোগ, হাসপাতাল রোডের ফুটপাত ও সড়কের বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ধরে হকার ও অস্থায়ী দোকানিদের দখলে থাকায় হাসপাতালে আসা রোগী ও যানবাহন চলাচলে সমস্যা হয়। এতে একদিকে যেমন যানজট সৃষ্টি হয়, অন্যদিকে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে।
‎
‎তাদের দাবি, শুধু উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। অভিযান শেষে উচ্ছেদকৃত স্থানগুলোতে যাতে পুনরায় দোকান বসানো না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
‎
‎এদিকে অভিযান শেষ হওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই উচ্ছেদকৃত স্থানগুলোতে ফের হকারদের অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা দেখা দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন সচেতন মহল।