নোয়াখালী প্রতিনিধি : নোয়াখালীর জেলা শহর মাইজদীর গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল রোডে অবৈধ দখল ও ফুটপাতের হকার উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবে অভিযান শেষ হতে না হতেই উচ্ছেদ করা স্থানগুলোতে আবারও দোকানপাট ও পসরা সাজিয়ে বসেছেন হকার ও ব্যবসায়ীরা। এতে পথচারীদের চলাচল নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে ভোগান্তি ও ক্ষোভ।
মঙ্গলবার বিকেলে নোয়াখালী জেলা প্রশাসন ও সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শাহনেওয়াজ তানভীর এর নেতৃত্বে মাইজদী আমানিয়া হোটেলের সামনে থেকে এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়। পরে অভিযানটি সুধারাম মডেল থানার সামনে থেকে প্রাইম হাসপাতালের সামনের সড়ক হয়ে জেনারেল হাসপাতালের সামনের পশ্চিম পাশে গিয়ে শেষ হয়।
অভিযান চলাকালে সড়কের পাশে ফুটপাত ও রাস্তার অংশ দখল করে রাখা বিভিন্ন অস্থায়ী দোকান, হকারদের পসরা এবং অন্যান্য স্থাপনা সরিয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মাদ শফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন, নোয়াখালী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলোসহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অভিযান শেষে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা এবং সড়কে যানজট কমাতে ফুটপাত ও সড়কের ওপর অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
তবে অভিযানের পরপরই দেখা যায়, উচ্ছেদ করা কয়েকটি স্থানে আবারও হকার ও দোকানদাররা বসতে শুরু করেছেন। কেউ কেউ আগের মতো পসরা সাজিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। ফলে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় পথচারীদের অভিযোগ, হাসপাতাল রোডের ফুটপাত ও সড়কের বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ধরে হকার ও অস্থায়ী দোকানিদের দখলে থাকায় হাসপাতালে আসা রোগী ও যানবাহন চলাচলে সমস্যা হয়। এতে একদিকে যেমন যানজট সৃষ্টি হয়, অন্যদিকে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ে।
তাদের দাবি, শুধু উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। অভিযান শেষে উচ্ছেদকৃত স্থানগুলোতে যাতে পুনরায় দোকান বসানো না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
এদিকে অভিযান শেষ হওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই উচ্ছেদকৃত স্থানগুলোতে ফের হকারদের অবস্থান নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা দেখা দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন সচেতন মহল।