সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৫ রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ভেনেজুয়েলার নতুন সাধারণ ক্ষমা আইনের অধীনে ১,৫০০ জনেরও বেশি বন্দীর আবেদন 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন চাপে প্রণীত নতুন সাধারণ ক্ষমা আইন কার্যকর হওয়ার দুই দিন পর গতকাল শনিবার ভেনেজুয়েলার ১,৫০০ জনেরও বেশি রাজনৈতিক বন্দী সাধারণ ক্ষমার আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির আইনসভার প্রধান। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

জাতীয় পরিষদের প্রধান জর্জ রদ্রিগেজ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এই আইন অনুযায়ী  ১,৫৫৭টি মামলা তাৎক্ষণিকভাবে নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং শত শত মানুষকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি এলন, ‘এই আইনের আওতায় সাধারণ ক্ষমা স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া হয় না। আবেদনকারীদের তাদের মামলা পরিচালনাকারীকে নির্দিষ্ট আদালত বা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়ে যথাযথ আবেদন করতে হবে।’

শুক্রবার সাধারণ ক্ষমা প্রক্রিয়া তদারকির দায়িত্বে থাকা আইনপ্রণেতা জর্জ আরেজা জানান, প্রসিকিউটররা আদালতের কাছে ৩৭৯ জন বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন।

রদ্রিগেজ গতকাল শনিবার এএফপিকে বলেন, এখন পর্যন্ত ৮০ জন বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মুক্তি পাওয়া সবাইকে রাজধানী কারাকাসে থেকে আটক করা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।

ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ-যিনি দেশটির শীর্ষ আইনপ্রণেতার বোন। নতুন আইনটি পাশ করতে উদ্যোগী হন। এই আইনটি যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মধ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে। গত ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে বামপন্থী নেতা নিকোলাস মাদুরো আটক  হওয়ার পর তিনি ক্ষমতায় আসেন।

গত বৃহস্পতিবার ভেনেজুয়েলার আইনসভা সর্বসম্মতিক্রমে ঐতিহাসিক এই সাধারণ ক্ষমা আইনটি পাস করে।

বিরোধী নেতারা নতুন আইনটি কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন। তারা বলছেন, এই আইনে কিছু অসঙ্গতি রাখা হয়েছে। যার দরুন সরকার আগেও যেসব অপরাধের অভিযোগ তুলত, বিশেষ করে মাদুরোর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে, সেগুলো এই ক্ষমা-আইনের আওতায় আসছে না বলে মনে হচ্ছে। এর ফলে অনেককে মুক্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হতে পারে এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধীরা।

আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যারা বিদেশি শক্তির সহায়তায় ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বা জোরপূর্বক কোনো কর্মকাণ্ড ‘প্রচার’ বা ‘সহজীকরণ’ করেছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ক্ষমা আইনের সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।

অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বিরোধীদলীয় নেতা এবং নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছেন। মাচাদো বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আছেন এবং ভবিষ্যতে ভেনেজুয়েলায় ফিরে আসার আশা করছেন।