☰

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৮ রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

কমিটি ঘোষণার পরই এনসিপিতে পদত্যাগের ঘোষণা, খুলনায় বিরোধ প্রকাশ্যে

খুলনা প্রতিনিধি : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) খুলনা মহানগর ও জেলা আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার পরপরই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন জেলা কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোল্লা শওকত হোসেন বাবুল। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শিববাড়ী মোড়ে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ ঘোষণা দেন। তাঁর দাবি, তাঁর সঙ্গে প্রায় ২০০ নেতাকর্মীও পদত্যাগ করছেন।
সোমবার প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ স্বাক্ষর করেন। আগামী তিন মাসের জন্য অনুমোদিত আংশিক কমিটিতে খুলনা মহানগরের আহ্বায়ক করা হয়েছে আহম্মদ হামীম রাহাতকে এবং সদস্যসচিব ডা. আব্দুল্লাহ চৌধুরীকে। সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হয়েছেন এস এম আরিফুর রহমান মিঠু ও গাজী শরিফুল ইসলাম ওহিদ। যুগ্ম আহ্বায়ক শরীফ বদরুদ্দোজা মো. সাদী।
জেলা কমিটিতে আহ্বায়ক হয়েছেন হাফেজ মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফয়জুল্লাহ এবং সদস্যসচিব আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল। সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে মোল্লা শওকত হোসেন বাবুলকে। যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রাশেদ হাসান, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব মো. হাসানুর রহমান এবং যুগ্ম সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল মামুন। সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে জায়েদুর রহমান প্রিন্স, মো. আবু শাহাদাত বাবুল ও মো. কদরুল হাসানকে।
বিজ্ঞপ্তিতে আগামী সাত দিনের মধ্যে মহানগর ও জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করে কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পদত্যাগের লিখিত বক্তব্যে মোল্লা শওকত হোসেন বাবুল বলেন, তাঁর মতামত না নিয়ে তাঁকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে। বিষয়টিকে তিনি অনাকাঙ্ক্ষিত ও স্বেচ্ছাচারিতা হিসেবে উল্লেখ করেন। নির্দিষ্ট পদটির প্রতি তাঁর কোনো মোহ নেই জানিয়ে তিনি কমিটি থেকে তাঁর নাম প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাবুল বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের দুই দিন পর তিনি এনসিপিতে যোগ দেন। এর আগে তিনি জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান, খুলনা বিভাগীয় কমিটির সদস্যসচিব এবং খুলনা মহানগরের সেক্রেটারি ছিলেন।
বাবুল তাঁর অভিযোগের জন্য এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলমকে দায়ী করেন। তাঁর দাবি, খুলনার কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে সারজিস আলমের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত ছিল। তিনি বলেন, দলের অন্য নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে তাঁর কোনো অভিযোগ নেই।
বাবুলের আরও দাবি, কমিটি প্রকাশের দুই-তিন ঘণ্টা আগে হোয়াটসঅ্যাপে সারজিস আলমের সঙ্গে তাঁর কথা হয়। তখন তিনি নিজের সম্মান বিবেচনার অনুরোধ করেছিলেন। আহ্বায়ক করা সম্ভব না হলে কোনো পদ না দেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন বলে দাবি তাঁর।
বাবুল বলেন, তাঁর সঙ্গে প্রায় ২০০ নেতাকর্মী পদত্যাগ করছেন। আরও অনেকে যুক্ত হতে পারতেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে জেলা পর্যায়ের কর্মীদের ডাকতে তিনি সংকোচ বোধ করেছেন বলে জানান।
খুলনায় এনসিপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিজের সক্রিয়তার কথা তুলে ধরে বাবুল বলেন, তাঁর সাংগঠনিক ভূমিকার যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি। তাঁর দাবি, দলের কর্মসূচিগুলোর বিভিন্ন নথি ও উপস্থিতির তথ্য সাংবাদিকদের কাছেই রয়েছে।
ভবিষ্যতে এনসিপিতে ফিরবেন কি না এ প্রশ্নে বাবুল বলেন, দল তাঁর দাবি মেনে নিলে বা সমঝোতার ভিত্তিতে সমাধান হলে বিষয়টি পরে বিবেচনা করা যেতে পারে। অন্য কোনো দলে যোগদানের বিষয়েও এই মুহূর্তে ভাবছেন না বলে জানান তিনি।