মুক্তবাণী রিপোর্ট : জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গ্রেপ্তার মৃতের মামা ওবায়দুর রহমানকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশ।
ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ সালাউদ্দিন সোমবার ওবায়দুরের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ১ অক্টোবর দিন রেখেছেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম।
আবেদনে বলা হয়, এ আসামি মরিয়মের আত্মহত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে সাক্ষ্য-প্রমাণ মিলছে। মরিয়মের বিয়ের আগে থেকে নজরুল ইসলামের সঙ্গে থাকা ওবায়দুর তাদের বিয়ে সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে তদন্তে জানা গেছে।
সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে গ্রেপ্তারের পরে যে পাঁচ কারণ দেখিয়ে রিমান্ড আবেদন করেছিল থানা পুলিশ, সেসব কারণ দেখিয়েই ওবায়দুরকে রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছেন ডিবি ইন্সপেক্টর সালাউদ্দিন।
এর মধ্যে রয়েছে—মরিয়ম ‘ফাঁস দিয়ে’ মারা যাওয়ার সময় এজাহারে নাম থাকা আসামিরা বাসায় ছিলেন। মরিয়মের আত্মহত্যায় তাদের প্রভাব আছে কি না তা উদঘাটন। মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, উস্কানি, মানসিক চাপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা অন্য কোনোভাবে আত্মহত্যায় সহায়তা করার বিষয়ে আসামিদের ভূমিকা উদঘাটন।
গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টো দিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।
পরদিন এ মামলায় নজরুল ইসলামকে চারদিন ও মাকছুদা ইসলামকে একদিনের রিমান্ডে পায় থানা পুলিশ। সেদিন রাতেই মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় দফায় নজরুল ইসলামকে আরও চার দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।
এর মধ্যে ২২ সেপ্টেম্বর রাতে মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি। পরদিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।