☰

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৮ রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

ফুফুর কক্ষের বাক্সে মিলল নিখোঁজ শিশুর লাশ

মুক্তবাণী রিপোর্ট : সকাল থেকে নিখোঁজ ছিল তিন বছরের তায়িফা সুলতানা। স্বজনদের খোঁজাখুঁজি আর থানায় জিডির পর সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শিশুটিকে ফুফু নার্গিস সুলতানা নিজের কক্ষে নিয়ে যাচ্ছেন।
পরে সেই কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে একটি বাক্সের ভেতর তায়িফার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

সোমবার বিকেল ৩টার দিকে বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের সুয়ালক বাজারসংলগ্ন ময়দার মিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শিশুটির ফুফু নার্গিস সুলতানাকে (৪৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহত তায়িফা সুলতানা ওই এলাকার ইলিয়াস খানের মেয়ে।
পুলিশ জানায়, সোমবার সকাল থেকেই শিশুটিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান না পেয়ে তার বাবা ইলিয়াস খান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে যান।

পরে শিশুটির পরিবারের বাড়িতে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ। সেখানে নার্গিস সুলতানাকে তায়িফাকে নিজের কক্ষে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তার কক্ষে তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে একটি বাক্সের ভেতর শিশুটির লাশ পাওয়া যায়।

পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নার্গিস সুলতানা ভাতিজিকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তবে কী কারণে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানাননি।

পরিবারের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর নার্গিস সুলতানা তার ভাই ইলিয়াস খানের সঙ্গে একই বাড়িতে থাকতেন।
পরিবারের ধারণা, শিশুটির মায়ের সঙ্গে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এ বিষয়ে নার্গিসের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ পারভেজ বলেন, সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে নার্গিস সুলতানার কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা করা হয়েছে।

ঘটনার পেছনের কারণ এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।