লাইফস্টাইল ডেস্ক : গভীর রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায়, বুক ধড়ফড় করে, মনে হয় কেউ যেন তাড়া করছে—এটাই দুঃস্বপ্ন। সাধারণ খারাপ স্বপ্নকে আমরা প্রায়ই হালকাভাবে নিই, কিন্তু যখন এই ভয়ংকর দৃশ্য বারবার ফিরে আসে এবং রাতের ঘুম কেড়ে নিয়ে দিনের স্বাভাবিক কাজকর্মে বাধা দেয়, তখন সেটি হয়ে ওঠে গুরুতর সমস্যা। বিশেষজ্ঞরা একে বলেন নাইটমেয়ার ডিসঅর্ডার।
সাধারণ দুঃস্বপ্ন নাকি মস্তিষ্কের সংকেত
মাঝে মাঝে খারাপ স্বপ্ন দেখা স্বাভাবিক। তবে যদি সপ্তাহে একাধিকবার দুঃস্বপ্ন দেখা দেয় এবং মনে হয় ঘুমালেই আবার সেই দৃশ্য ফিরে আসবে, তাহলে এটি চিকিৎসাযোগ্য স্লিপ ডিসঅর্ডারের লক্ষণ হতে পারে। গবেষণা বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে ২ থেকে ৮ শতাংশ মানুষ এ সমস্যায় ভোগে। বিশেষ করে যারা পিটিএসডি, বিষণ্নতা বা সামাজিক ভীতিতে আক্রান্ত, তাদের মধ্যে এই প্রবণতা সাধারণ মানুষের তুলনায় তিন গুণ বেশি।
ভয় স্মরণ করার প্রক্রিয়া
সাধারণত মস্তিষ্ক দিনের ভয়ংকর স্মৃতিগুলো ঘুমের মধ্যে প্রসেস করে নিষ্ক্রিয় করে দেয়। একে বলা হয় ফিয়ার এক্সটিংশন। কিন্তু নাইটমেয়ার ডিসঅর্ডারে এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। ফলে মস্তিষ্ক একই ভয়ংকর স্মৃতিকে বারবার জীবন্ত করে তোলে, অনেকটা আটকে যাওয়া রেকর্ডের মতো।
লক্ষণগুলো চিনে নিন –
মুক্তির পথ
ওষুধ নয়, আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে ইমেজারি রিহার্সাল থেরাপি সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। এতে দুঃস্বপ্নের চিত্রনাট্য নতুনভাবে লিখে সুন্দর পরিণতি দেওয়া হয় এবং প্রতিদিন জেগে থাকা অবস্থায় সেটি মনে মনে রিহার্সাল করা হয়। ধীরে ধীরে মস্তিষ্ক সেই ইতিবাচক পরিণতিকে গ্রহণ করতে শুরু করে।
এছাড়া স্লিপ হাইজিন মেনে চলা জরুরি – ঘুমানোর আগে ডিজিটাল স্ক্রিন বন্ধ রাখা, অ্যালকোহল ও ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা এবং নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস করা।
শিশুদের দুঃস্বপ্ন
৩ থেকে ৬ বছরের শিশুদের মধ্যে দুঃস্বপ্ন সাধারণ। এটিকে হালকাভাবে না নিয়ে শিশুকে আশ্বস্ত করা দরকার। নাইটলাইট জ্বালিয়ে রাখা বা প্রিয় খেলনা কাছে রাখা শিশুকে মানসিক নিরাপত্তা দেয়।
দুঃস্বপ্ন মানেই ভয় নয়
দুঃস্বপ্ন অনেক সময় অবদমিত আবেগ বা মানসিক চাপের প্রতিফলন। তাই ভয় না পেয়ে মূল কারণ খোঁজা জরুরি। যদি দুঃস্বপ্ন জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ কেড়ে নেয়, তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও সঠিক থেরাপির মাধ্যমে রাতের শান্তি ফিরে পাওয়া সম্ভব। মনে রাখবেন, অন্ধকার যত গভীরই হোক, সকালের আলোয় তার কোনো অস্তিত্ব থাকে না।